জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত

আগস্ট ২২, ২০১৬ ৩:৩৪ দুপুর

অনলাইন ডেক্সঃ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবির) শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের জন্যে দাবি জানাচ্ছে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছে। আন্দোলন করছে। এই আন্দোলন যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হলে তাদের পুরাতন হলগুলো উদ্ধারের জন্যে ২০০৯, ২০১১, ২০১২, ২০১৪ সালে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের সেসব আন্দোলনে গুনপোকা ধরে। একশ্রেণির ছাত্র নেতারা নিজেদেরকে বিকিয়ে দেয় অর্থ আর লােভ-লালসার কাছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্নে ঢেলে দেয় ছাই। বিফল মনোরথে তাদের ঘরে ফিরতে হয়।

চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জমিতে আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আবারো টানা আন্দোলন করছেন। তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ। এখনো পর্যন্ত শোনা যায়নি তারা কোন ভাঙচুর করেছে। কোন গাড়ি পুড়িয়েছে। সরকারি কোন সম্পদের ক্ষতি সাধন করেছে। শুধু গাড়ির টায়ার পুড়াচ্ছে নিজেদের ক্যাম্পাসে।

এই জবি সম্ভবত একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেটি স্কুল থেকে ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েছে। বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে ঢাকার সদরঘাটে ১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে এটি চালু করেন। ১৮৭২ সালে নাম বদলে জগন্নাথ স্কুল, ১৮৮৪ সালে দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজ ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজে পরিণত হয়।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সামনে আসতে হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছয়টি অনুষদে ৩১ টি বিভাগ ও ১ টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। এখানে শিক্ষকসহ অ্যাকাডেমিক কর্মকর্তা আছে প্রায় ৯৬০ জন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৮৫০ জন ও ২৩ হাজার শিক্ষার্থীসহ মোট ২৪৮১০ জন মানুষের জন্যে একটি হলও থাকবে না এটি কি কোন কথা হতে পারে? এমন যদি হতো তাদের নিজস্ব কোন জমি নেই তা হলে কথা ছিল ভিন্ন। কিন্তু জগন্নাথের তো ১. বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, ২. ড. হাবিবুর রহমান হল, ৩. বাণী ভবন হল, ৪. আব্দুর রহমান হল, ৫. শহীদ আনোয়ার শফিক হল, ৬. তিব্বত হল, ৭. সাইদুর রহমান হল, ৮. রউফ মজুমদার হল, ৯. শহীদ আজমল হোসেন হল, ১০. বজলুর রহমান হল, ১১. নজরুল ইসলাম খাঁন হল ও ১২ শহীদ শাহাবুদ্দিন নামে ১২টি হল ছিল। এখন হলগুলো কাদের দখলে? কেন দখল করে রাখা হয়েছে তাদের জমিগুলো কেউ কি এর সঠিক জবাব দিবেন?

হয়তো জেনেশুনে মুখে তালা মেরে রাখছে অনেকেই। কিন্তু কেন? দেশের শিক্ষাবিদ, সমাজপতি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষগুলো কেন শিক্ষার্থীদের সম্পদ ফিরিয়ে দিতে কথা বলছে না। শক্তি প্রয়োগ করছে না?

প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে কেন অন্যের জমিতে ভাড়া থাকতে হচ্ছে? কেন অযথা কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করতে হচ্ছে? এর জবাব কি জাতি আশা করে না। শিক্ষার উদ্দেশ্যই যদি হয় সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করা সেইখানে ওদের জমিতে কাপড় বিক্রি করে, গোডাউন তৈরি করে কি সেসব তৈরি করা যাবে?

আমাদের দেশে একটি বাস্তবসম্মত বিষয় নিয়ে দাবি জানালে সেটির রাজনৈতিক চরিত্রায়ন করা হয়। কেন এই ছল-চাতুরী। শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলবে ন্যায়সঙ্গতভাবে। এতে রাজনৈতিক চরিত্রায়ন করার কি অর্থ হয় বুঝি না।

২০০৫ থেকে ২০১৬ এক এক করে ১১ বছর পার হয়েছে। এখনো তাদের কোন হল নেই। কোন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হল ছাড়া চলে? জগন্নাথের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তাদের দাবি যৌক্তিক। শুধু জগন্নাথ কেন দেশ-বিদেশের সকল অধিকার বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পক্ষেই আমরা ঐকতান।

শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কি বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলন করেননি। নিজের সময়, শ্রম, মেধা খরচ করেননি। তবে তার স্বপ্নের বাংলাদেশে কেন বার বার শিক্ষার্থীদের অধিকার বঞ্চিত করা হচ্ছে?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রাবস্থায় আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে। আজ তিনি কি এই অধিকার বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের প্রতি তাকাবেন না। শিক্ষার্থীরা কি প্রধানমন্ত্রীর মাতৃছায়া থেকে বঞ্চিত হবে?

লেখক: শিক্ষার্থী; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*