একটা স্বপ্ন মানে ভালোবাসা, মমতা আর হৃদয়ের আকুতি

August 23, 2016 5:50 am

অনলাইন ডেক্সঃ

মা-বাবা, চাচা-চাচী, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, ছোট-বড় ভাই ও বোন, আমার এলাকার সর্বস্তরের লোকজন ও আমার সকল শুভাকাঙ্খী।

আমি ক্ষমাপ্রার্থী এবং মর্মাহত আপনাদেরকে অনেক বেশি কষ্ট দেওয়ার জন্য। আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমার এবং আপনাদের মনের আশা অথবা প্রত্যাশা আমি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমি জানি আপনারা আমাকে অনেক বেশি ভালবাসেন তাই অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছেন। অনেকেই ফোন দিয়েছেন, ফেসবুকে নক করেছেন কিন্তু রেসপনস করার দু:সাহসটুকু হয়নি আমার।

সদ্য প্রকাশিত ৩৫তম বিসিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় ক্যাডার না হওয়া (নন ক্যাডার) আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাইয়ের দেওয়া আংশিক একটা স্টাটাস। আমি এখানে এই কথাগুলো এজন্য লিখলাম তার কারণ হলো, আমাদের একটা স্বপ্ন মানে শুধু একটা স্বপ্ন না। এর পেছনে অনেক মানুষের ভালোবাসা, মমতা, হৃদয়ের আকুতি আর স্বপ্ন জড়িত।

নিজের স্বপ্নের সাথে অন্যের স্বপ্ন কিভাবে জড়িত তা হয়তো আমরা সময় না হলে অনুধাবন করতে পারিনা। কিন্তু বাস্তবতাটা ভিন্ন। দুটো চোখের দিকে চেয়ে থাকে পরিবারের সমাজের অনেকগুলো চোখ। যার কারণে আর নিজের স্বপ্নের গণ্ডি পেরিয়ে সেটা হয়ে ওঠে অনেকের স্বপ্ন। আর একটা উদাহরণ দিলে হয়তো আরো বেশি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাইয়ের কাছে শুনতে পেলাম যে, হল আন্দোলনের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রেসক্লাবের সামনে সামাবেশ করছিলো।

মিছিলের সামনে হঠাৎ লক্ষ করলো দশ/বারো বছরের এক কিশোর দুহাত প্রসারিত করে মিছিল দিচ্ছে আর গলা ফাটাচ্ছে। অবাক হবার মতো দৃশ্য দেখে ছবি নিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেলো তুমি কেন মিছিলে গলা ফাটাচ্ছো? সে বললো, হলের জন্য! অবাক করা ব্যাপার। হলের জন্য তুমি কেন মিছিল দিবে, চিৎকার করবে? তুমি তো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রই না। সাবলিলভাবে উত্তর এলো। হল হলে আমি ঐ হলে কাম করমু।

তাহলে এবার বোঝেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ন্যায্য অধিকারের, প্রাণের স্বপ্নের সাথে ছোট আলামিন নামের এই ছেলেটার স্বপ্নও জড়িত। তার মানে এই হলের স্বপ্ন মানে শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরই স্বপ্ন না।

এ স্বপ্ন বিশহাজার শিক্ষার্থী ছাড়াও হাজার হাজার মানুষের, পরিবারের স্বপ্ন, হৃদয়ের আকুতি। এমন অনেক মা আছেন যিনি দেখতে পাবে না তাঁর সন্তান কোথায় থাকবে। শুধু মমতার পরশ বুলিয়েই বুঝতে পারবে, স্পর্শ করেই বুঝতে পারবে তার সন্তান তার যোগ্য জায়গাতে আছে। অন্ধ মা যদি বুঝতে পারে তাহলে দেশমাতা কেন নয়? দেশমাতার স্তম্ভ রাষ্ট্রের কেন নয়? রাষ্ট্র অন্ধ,বধির হতে পারে,কর্তাব্যক্তিরা নিশ্চয় নয়?

লেখক: গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

Please follow and like us:

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*