কুমিল্লায় কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে ৭৫ হাজার গরু

August 25, 2016 9:10 am

অনলাইন ডেক্সঃ

কুমিল্লায় এ বছর কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে ৭৫ হাজার গরু। তারপরও আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এরই মধ্যে কুমিল্লায় চলছে অসাধু প্রক্রিয়ায় গরু মোটাতাজাকরণ।

কৃত্রিমভাবে এসব গরু মোটাতাজাকরণে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ পাম ট্যাবলেট, স্টেরয়েড ও ডেক্সামেথাসনের মতো ভয়ানক ক্ষতিকারক ওষুধ। বেশি লাভের আশায় অনেক খামারি পশুচিকিৎসকদের পরামর্শ না মেনেই গরুকে স্টেরয়েড দিচ্ছেন। যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে।

কুমিল্লার প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, গেল বছর গোটা জেলায় হৃষ্টপুষ্ট গরুর সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৫৫ হাজার ৬১০টি। গত কোরবানির ঈদে কুমিল্লা জেলার চাহিদা ছিল দুই লাখ ৮২ হাজার। কোরবানির জন্য এ বছরের চাহিদা প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার। এ বছর খণ্ডকালীন পালনকারী খামারি দুই হাজার ৬শ ১৭জন, ডেইরি খামারি ৯৩৫জন ও পারিবারিক পর্যায়ের পালনকারী খামারি ৮০ হাজার ৭৫৯জন। সর্বমোট ৮৪ হাজার ৩১১জন খামারির প্রায় হৃষ্টপুষ্ট গরুর সংখ্যা তিন লাখ ৩১ হাজার ৫৩৫টি। ফলে এ বছর কোরবানির ঈদে চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে ৭৫ হাজার ৯২৫টি গরু।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভয়ঙ্কর বিষাক্ত খেলায় মেতে উঠেছেন একশ্রেণীর অতিলোভী ব্যবসায়ী। ঈদের দুই থেকে তিন মাস আগে অল্প টাকায় গরু কিনে তারা বিষাক্ত হরমোন, ইনজেকশন ও রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ করে মোটাতাজা করছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২৫২টি স্থানে গরুর হাট বসবে। এতে ৭৭টি মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। অন্যদিকে এ বছর ১৬ উপজেলায় দুই লাখ ৪০ হাজার ১৮১টি ষাঁড়, ১৬৭টি মহিষ, ৬৩ হাজার ৭৭৯ বলদ ও ২৭ হাজার ৪০৮টি গাভীসহ তিন লাখ ৩১ হাজার ৫৩৫টি পশু কোরবানির জন্য বিক্রি করতে হাটে তোলা হবে। এছাড়াও খাসি, ছাগল ও ভেড়া বিক্রির জন্য বাজারে আসবে ৪৪ হাজার ১৬৪টি।

স্থানীয় খামারিরা আশংঙ্কা করে বলেন, ‘ভারত থেকে গরু আসলে খামারিদের ব্যবসা পথে বসার অবস্থা হবে। কারণ গরুর খাবারের দাম বেড়েছে। প্রতি বছরের মত এবারো ভারতীয় গরু আসলে আমরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাবো না।’ এ সব কারণেই লাভ না হওয়ার শংঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় খামারিদের।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ও বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্ররোচনায় পড়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ বিষাক্ত রাসায়নিকের হাই ডোজ প্রয়োগ করে গরুকে মোটাতাজা করছেন। এসব গরুর মাংস খেলে লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। কমে যায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

তিনি আরো বলেন, রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগে মোটাতাজা গরুর গোস্ত শিশু স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকির।

কুমিল্লা জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ক্ষতিকর ওষুধ সেবনের মাধ্যমে মোটাতাজা করা গরু কোরবানির হাটে তোলা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ জন্য আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রতিটি গরুর হাটে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে গরুর রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য ৭৭টি মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। যদি কোনো গরুর রক্ত পরীক্ষায় বিষাক্ত কিছু ধরা পড়ে, তাহলে সেই গরু সিল মেরে বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, কোরবানীর হাটে বিক্রিয়ের উদ্দেশ্যে পারিবারিক খামারি বা মৌসুমী খামারিরা বাণিজ্যিকভাবে গরু লালনপালন করছেন তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও গরু মোটা করার বিষয়ে সাবির্ক সহযোগিতা আমরা করছি।

ডা. আবদুল মান্নান আরো বলেন, গরু মোটাতাজাকরণ একটি নিয়মিত ও প্রচলিত পদ্ধতি। এটি একটি স্বল্পমেয়াদি লাভজনক পদ্ধতি। প্রাকৃতিক এ পদ্ধতি যুগ যুগ ধরে প্রচলিত। এটি বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি এবং অল্প সময়ে গরু মোটাতাজা হয়। এ ক্ষেত্রে আমরাও সহযোগিত করি।

Please follow and like us:

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*