বিদেশে বগুড়ার দইয়ের সর্বপ্রথম সু-খ্যাতি লাভ করে ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ডে…

August 28, 2016 4:58 pm

ইতিহাস ;

তৎকালীন পাকিস্তানের স্বৈরাচার সরকার আইয়ুব খান বগুড়ায় সর্বপ্রথম এসে দইয়ের স্বাদ উপভোগ করেন, এরপর ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তাদের সহানুভূতি পেতে পাঠাই বগুড়ার এই দই।

বিদেশে বগুড়ার দইয়ের সর্বপ্রথম সু-খ্যাতি লাভ করে ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ডে। ওই বছরের গোড়ার দিকে তৎকালীন বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর স্যারজন এন্ডারসন বগুড়া নওয়াববাড়ি ভ্রমন করতে এসে তিনিও প্রথম দইয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন। তাকে কাঁচের পাত্রে তৈরি করা স্পেশাল ধরনের দই খেতে দেওয়া হয়েছিল।

লোভনীয় স্বাদের কারণে গভর্নর এন্ডারসন বগুড়ার দই ইংল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। বগুড়ার দই এর স্বাদ পেতে এখন ভারত উঠে পড়ে লেগেছে। গত বছর জলপাইগুড়ি জেলার চেম্বার কর্মকর্তাদের মধ্যে বগুড়ার দই নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওই সময়ে সেখানে অনুষ্ঠিত বাণিজ্যমেলায় বগুড়ার দইয়ের কদর এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যা বগুড়া থেকে ১০ মেট্রিক টন (প্রতিটি ৬শ’ গ্রাম ওজনের ১৭ হাজারেরও বেশি সরা) দই সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরে অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যে এত দই পাঠানো সম্ভব হয়নি।

গত বছর ডিসেম্বরে জলপাইগুড়িতে অনুষ্ঠিত নর্থ বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি  (এনবিএনসিসিআই) আয়োজিত বাণিজ্যমেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৫শ’ কেজি দই পাঠানো হয় বগুড়া থেকে। আর যায় কোথায়! দইয়ের স্বাদ পেয়ে সেখানকার লোক পিঁপড়ার মতো লাইন ধরেছিল। ভিড় জমাতে থাকে দই বিক্রয় স্টলে।

বগুড়ার দইয়ের গ্রাহক এতটা বেশী যে সবার চাহিদা পূরণ করা যায়নি। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা কিংবা অঞ্চলে উৎপাদিত হলেও কিছু বিশেষত্বের কারণে ‘বগুড়ার দই’-এর খ্যাতি দেশজুড়ে। উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে কারিগরদের (উৎপাদক) বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি গুনগত মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা অতি যত্নবান হওয়ায় বগুড়ার দই স্বাদে-গুণে অতুলনীয়। প্রায় দেড়শ’ বছর আগে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোষ পরিবারের হাত ধরে বগুড়ায় দইয়ের উৎপাদন শুরু।

পরবর্তী সময়ে বগুড়ার নওয়াব আলতাফ আলী চৌধুরীর (পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীর বাবা) পৃষ্ঠপোষকতায় শেরপুরের ঘোষ পরিবারের অন্যতম সদস্য গৌরী গোপাল বগুড়া শহরে দই উৎপাদন শুরু করেন। বগুড়ার দই ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়া, রানী এলিজাবেথ থেকে শুরু করে মার্কিন মুল্লুকে পৌছে গেলেও আমরা এই দই বড় পরিসরে রপ্তানী করতে পারছি না।

বগুড়ার দই এর পর্যাপ্ত রফতানির সম্ভাবনা থাকলেও কাস্টমসের ট্যারিফ সিডিউলে পণ্যের তালিকায় দইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের বাইরে বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি সরকার এই বিষয়ে আন্তরিক হবে। বগুড়ার অাদী দই ব্যবস্যায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমাদের বগুড়ার দইয়ের বহির্বিশ্বে এতটা কদর থাকার পরেও অামরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে ব্যার্থ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*