স্পেনের মুসলিম শাসন এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস…

October 16, 2016 3:22 pm

ইতিহাস;

স্পেনের মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা হয় ৭১১ সালে তখন সেখানে খ্রীষ্টান শাসক রড্রিক ,সে ছিল স্বৈর শাসক, তাকে সরাতে আরেক খ্রীষ্টান রাজা জুলিয়ান আসেন  নর্থ আফ্রিকার মুসলিম গভর্ণর মুসার কাছে। রাগের ভাত শত্রুরে খাওয়াব – মানসিকতা নিয়ে। মুসা ৭ হাজার সৈন্য নিয়ে পাঠান সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদকে। জিব্রাল্টার পার হয়ে যুদ্ধ করেন ও রাজা রড্রিককে পরাস্ত ও হত্যা করেন। সহজেই তারা স্পেন ও পর্তুগালের একাংশ জয় করেন। এরপর আর আগাতে পারেননি।
উমাইয়া শাসনকালে স্পেনে  ছিল মুসলিমদের  স্বর্ণযুগ। তখন বড় অংশের খ্রীষ্টান ও ইহুদিদের সাথে মোসলমানদের লিবারেল শাসন ছিল। খ্রীষ্টান ও ইহুদিরা জিজিয়া দিয়ে সরকারী কাজেও চাকরী করতো। এ সময় সুন্দর সুন্দর মসজিদ ও প্রাসাদ নির্মাণ হয়েছিল বলে এটাকে উন্নয়ন বললেও বিজ্ঞানের তেমন উন্নয়ন হয়নি। ১১ তম শতাব্দিতে উমাইয়া শাসনের পর মুসলিম অভিজাতদের মধ্যে নানা দ্বন্ধ শুরু হয় ক্ষমতা নিয়ে। কয়েকটি রাজ্যও তৈরী হয়। ওদিকে পোপের শাসন শক্তিশালী হতে থাকে। সে সময়ের একটি কথা ছিল, “Rulers of Muslim states began cutting each others throat again.”
এভাবেই মুসলিম শাসন দুর্বল হতে থাকে। ১৪৯২-তে খ্রীষ্টান রাজা শাসন জারি করে সব মুসলিমকে খ্রীষ্টান হতে অর্ডার করে। অনেকে ইসলাম ত্যাগ করে, অনেকে স্পেন ত্যাগ করে। মুসলিম শাসনের অবসান হয়।
উমাইয়া শাসনের সময় স্পেনে লিবারেল শাসন ছিল বলে সকলকে মুসলিম বানানো যায়নি। যেটা তারা করেছিল ‍পুরো নর্থ আফ্রিকায়।  স্পেনে নানা সংষ্কৃতির সমাজ ছিল বলে সেটা কঠিনও ছিল।
মূলত শক্তি ছাড়া কোথাও ইসলামী শাসন অগ্রসর হয়নি। যেখানে লিবারেল ছিল সেখানে থেমে গেছে। আগে জয়, এরপর আরবী ভাষা ও কোরান শিক্ষা – এ নীতি ছিল নর্থ আফ্রিকার দেশগুলোতে। তারপরও লিবিয়ার ফেজেন এলাকায় ইহুদিদের সাথে মুসলিমদের শত বছরের যুদ্ধ হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*