প্রাথমিক শিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুরের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখল

March 11, 2016 5:22 pm

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখল করতে তাদের বাড়ি-ঘর থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আর এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রাথমিক ও গণ-শিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। হিন্দুদের উচ্ছেদ করতে মহিলাদের উপর হামলা, জমির ধান কাটছে, তাদের গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে ও বসত ভিটায় আক্রমণ চালাচ্ছে মন্ত্রীর লোকজন বলে দাবি করেছে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন বাস্তবায়ন জাতীয় নাগরিক সমন্বয় সেল।

জমি দখলে এখন পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ২০টি ভুয়া মামলা করেছে মন্ত্রীর আস্থাভাজন স্থানীয় আ’লীগ নেতা এমদাদুল।

জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। এসময় পার্বতীপুরের সংখ্যালঘু ও ভুক্তভোগী পরিবারবর্গের অনন্ত কুমার রায়, প্রশান্ত কুমার রায় ও গণেশ চন্দ্র রায় প্রমুখ এসময় তাদের উপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোগদখলীয় জমি জবরদখলের চেষ্টা এবং তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এ কাজে মন্ত্রীর সহযোগিতা করছে স্থানীয় আ’লীগ নেতা এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী ও তার লোকজন। অভিযোগ করা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের জমি দখলের জন্য দলিল জালিয়াতি, ভাড়াটিয়া গুণ্ডা দিয়ে তাদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা দেয়াসহ পরিবারগুলোকে জমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। মন্ত্রীর ভয়ে, সংখ্যালঘু পরিবারের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না, পথে ভয় দেখানো হচ্ছে, তাদের জীবন চলছে না বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের একটি বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেখানে মন্ত্রী বলেছেন, ‘এ জমি এখন আর অর্পিত সম্পত্তি নয়। কেউ যদি তার দখলে থাকা জমি কাউকে দিয়ে দেয়, তাহলে তার অধিকার আছে জমিতে যাওয়ার। ’

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ভুক্তভোগীদের অবস্থা প্রত্যাক্ষ করার জন্য অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন জাতীয় নাগরিক সমন্বয় সেলভুক্ত সংগঠন গত ৩১ জানুয়ারি সরেজমিন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার  চণ্ডিপুর বাবুপাড়া ও গোয়ালপাড়া পরিদর্শন করেছে বলেও জানানো হয়।

সুলতানা কামাল বলেছেন, পার্বতীপুরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর স্থানীয় ভূমিদস্যুদের আগ্রাসন চলছে। এসব পরিবার জেলজুলুম, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। যারা স্বাধীনতার সপক্ষের লোক দাবি করছে, তারাই আবার সাধারণ মানুষকে অত্যাচার করছে। দুর্বল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সমন্বয় সেলের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে বলা হয়, পার্বতীপুরের সংখ্যালঘুদের বসতভিটা ও ভোগদখলীয় কৃষিজমি গায়ের জোরে দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধী ও দখল চেষ্টারীদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। চণ্ডিপুর ইউনিয়ননের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে তাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাব এবং পেশিশক্তি ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি গ্রাস বা দখল করতে না পারে তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। সংখ্যালঘুদের ভূমি ও অধিকার রক্ষায় একটি পৃথক সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে। সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রশাসনকে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

মাঠজরিপে যেসব জমি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়েছে, তা ওই এলাকায় ৬০ বছর ধরে বসবাসকারী অসহায় সংখ্যালঘু পরিবারের মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পার্বতীপুর উপজেলার উপজেলার  চণ্ডিপুর মৌজার ২৫.৭৮ একর জমিতে ক্ষত্রিয় ৪০টি পরিবারসহ ৫৫টি পরিবার বংশপরম্পরায় বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছে।

কৃষিনির্ভর প্রায় সব পরিবারের আশ্রয় ও জীবিকা নির্বাহের জন্য এ জমিগুলোই একমাত্র অবলম্বন। ১৯৬৭-৬৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার জমিগুলোকে শত্রু সম্পত্তির তালিকায় আনে। সেই সময় এসব পরিবারের পূর্বপুরুষদের নামে এসব জমি একসনা লিজ দেয় সরকার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জমিগুলো অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত করা হয়। সর্বশেষ মাঠজরিপে প্রাথমিক খতিয়ানে (২০০৪ সালে) এটি খাস জমি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

উল্লিখিত পরিবারগুলো ছাড়া এসব জমি কখনো এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী বা অন্য কারো দখলে ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ, অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হক ও ব্লাস্টের রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার এ সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

Please follow and like us:

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*