মাইকেল জ্যাকসনের নেভারল্যান্ড বিক্রি হচ্ছে না যে কারণে

March 27, 2016 12:19 pm

মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন  একজন মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী এবং সমাজসেবক। জ্যাকসন পরিবারের ৭ম সন্তান মাইকেল মাত্র ৫ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি তখন জ্যাকসন ফাইভনামের সঙ্গীত গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে গান গাইতেন। ১৯৭১ সাল থেকে মাইকেল একক শিল্পী হিসাবে গান গাইতে শুরু করেন। মাইকেলের গাওয়া ৫টি সঙ্গীত অ্যালবাম বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত রেকর্ডের মধ্যে রয়েছে – অফ দ্য ওয়াল (১৯৭৯), থ্রিলার (১৯৮২), ব্যাড (১৯৮৭), ডেঞ্জারাস (১৯৯১) এবং হিস্টরি (১৯৯৫)। প্রায়শই তাঁকে পপ সঙ্গীতের রাজা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় অথবা, সংক্ষেপে তাঁকে এমজে নামে অভিহিত করা হয়।[৩] সঙ্গীত, নৃত্য এবং ফ্যাশন জগতসহ ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে চার দশকেরও অধিককাল ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।

পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর নানা স্থানে থাকা তার সম্পত্তির অনেকগুলোই বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তার স্মৃতিবিজড়িত বিলাসবহুল বাড়ি নেভারল্যান্ড র‌্যাঞ্চ। তা এ বাড়িটি ২০১৫ সালের মে মাসে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হলেও কিছু কারণে তা এখনও সম্পন্ন হয়নি।

download

এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। ২০০৮ সালে ঋণগ্রস্ত মাইকেলের কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি ৩৫ লাখ ডলারের বিনিময়ে নেভারল্যান্ড দখলে নেয় ‘কলোনি ক্যাপিটাল’। তখন থেকেই এর দেখাশোনা করার জন্য প্রতিবছর সংস্থাটির খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ ডলার। তবে এখন জানা গেছে, বাড়িটির মালিকানা বিক্রি করতে চাইছে সে সংস্থাটি। বিক্রির জন্য বাড়িটির দাম চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি ১০০ মিলিয়ন ডলার।

তবে এ মূল্যে বাড়িটি কিনতে আগ্রহী মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না বলেই জানিয়েছে বিভিন্ন সম্পত্তি বিক্রয়ে নিয়োজিত সংস্থা। তাদের মতে, এ বাড়িটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। রিয়েল এস্টেট মার্কেট এখন খুবই ধীর হয়ে পড়েছে। ফলে সবকিছু যে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাবে, এমনটা নয়। এ জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

১৯৯৮ সালে গলফ কোর্স নির্মাতা উইলিয়াম বোনের কাছ থেকে জমি এবং বাড়িটি কেনেন মাইকেল জ্যাকসন। এদিকে ‘নেভারল্যান্ড র‌্যাঞ্চ’ বিক্রির খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন জ্যাকসনের পরিবারও। মাইকেল এই খামার বাড়িটিকে শিশুদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সে জন্য নেভারল্যান্ডে চিড়িয়াখানা, বিনোদন পার্কসহ শিশুদের মনোরঞ্জনের বিভিন্ন ব্যবস্থা করেছিলেন।

কিন্ত কর্মচারীদের বেতন দিতে ব্যর্থ হওয়ায়, ২০০৬ সালে নেভারল্যান্ডে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। বিখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথবি এবং হিলটন অ্যান্ড হাইল্যান্ড যৌথভাবে বাড়িটি নিলামে বিক্রি করার উদ্যোগ নেয়। রূপকথার চরিত্র পিটার প্যান যে দ্বীপে বাস করতো তা নেভারল্যান্ড নামে পরিচিত। এই দ্বীপের শিশুরা কখনো বড় হয় না। মাইকেল জ্যাকসনও চেয়েছিলেন তার বাড়িটিকে সেভাবেই তৈরি করতে। মাইকেল জ্যাকসনের লস অ্যাঞ্জেলসের উত্তর-পূর্ব এ বাড়িটি মূলত ১২,৫৯৮ বর্গফুট আয়তনের ফ্রেঞ্চ নরম্যান্ডি-স্টাইলে তৈরি প্রাসাদ। শুধু বাড়িটিই মূল আকর্ষণ নয় এতে রয়েছে বাড়িসংলগ্ন ২,৬৯৮ একর এলাকা।

Please follow and like us:

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*