#ভোলার, ‘তারুয়া’ দ্বীপ,পর্যটন কেন্দ্রটি বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র সৈকত…

December 13, 2016 8:52 pm

ভ্রমণ;

তারুয়াকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে তা হয়ে উঠছে না। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা সেখানে যেতে পারছেন না। যারা যাচ্ছেন তারাও জীবনের ঝুঁকিসহ নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।পর্যটন মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয় প্রশাসন একটু উদ্যোগ নিলে পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতটিতে অনায়াসেই যেতে পারেন।

জেলা শহর থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে এই তারুয়া সমুদ্র সৈকতের অবস্থান। একশত পয়ত্রিশ কিলোমিটার পাকা সড়কের পর পনের কিলোমিটার নৌ-পথ পেরিয়ে সেখানে যেতে হয়। তারুয়া সমুদ্র সৈকতে পর্যটকরা একই সঙ্গে উপভোগ করতে পারেন বিশাল সমুদ্রের বিস্তীর্ণ জলরাশি, নানা জাতের পাখিদের কল-কাকলি, বালুকাময় মরুপথ আর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ছায়াঘন মনকাড়া নিবিঢ় পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ, বৈচিত্রময় প্রাণী আর সাগরের উত্তাল গর্জন সব মিলিয়ে মায়াবী হাতছানী। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে দ্বীপটিকে সাজিয়ে তুলেছেন। তবে সেখানে এখনো গড়ে উঠেনি মানুষের বসবাস। এখানে হরিণ ও ভাল্লুকসহ নানা প্রাণী ও দৃষ্টিনন্দন মাটি রয়েছে। সবুজ বৃক্ষের সমারোহ আর পাখিদের কলরবে মুখরিত তারুয়া দ্বীপ পর্যটন এলাকা হিসেবে গুরুত্বের দাবী রাখে। কিন্তু তারুয়া সমুদ্র সৈকতের এই প্রাকৃতিক রূপ-সৌন্দর্যের কথা দেশবাসী তো দুরের কথা ভোলার বহু মানুষের কাছে আজ যা অজানা।

কুয়াকাটা কিংবা কঙবাজার সমুদ্র সৈকতের চেয়ে এই সমুদ্র সৈকতটি কোন অংশে কম নয়।

অঞ্চলটা খুবই চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এই পর্যটন কেন্দ্রটি বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র সৈকত হতে পারে।

সমুদ্র সৈকতটিতে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত কোন নৌ-যান নেই। বিশেষ ব্যবস্থায় কিংবা রিজার্ভ করা স্পীড বোট, ট্রলার বা ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করে সৈকতে যেতে হয় পর্যটকদের। সৈকতে নামার জন্য কোন পন্টুন বা টার্মিনাল নেই সেখানে। যে কারণে পর্যটকরা সেখানে যাবার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যেতে পারছেন না। যারা এই কঠিন বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে প্রকৃতির টানে সেখানে যান, গিয়ে মুগ্ধ হন ঠিকই কিন্তু নিরাপত্তাসহ সুপেয় পানি বা বিশ্রামাগারের অভাবে চরম বিড়ম্বনার শিকার হন।

ভোলার দক্ষিণের সর্বশেষ এ অঞ্চলটি হচ্ছে তারুয়া। এরপরে আর কোন দ্বীপ নেই। এ সমুদ্র সৈকতটিকে ঘিরে করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। এদিকে, প্রকৃতির রূপ আলো আধারির বাহারী খেলার দেখা মেলে এখানে। তারুয়ায় দাঁড়িয়ে ভোরের সূর্যের আগমনী বার্তা দেখা যায়। পাশাপাশি সন্ধ্যার আকাশে সিঁড়ি বেয়ে এক পা দু’পা করে লালিমায় ভরে ওঠার সেই অতুলনীয় দৃশ্যও দেখা যায়। পর্যটক আর ভ্রমন পিপাসু মানুষকে মুগ্ধতার বন্ধনে আবদ্ধ করার যাদুকরি শক্তি রয়েছে তরুয়া দ্বীপের। তরুয়ায় শীতকালে ভিন্ন মাত্র যোগ করে সুদুর সাইবেরিয়া থেকে ছুটে আসা অতিথি পাখি। তখন পাখিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয় এ দ্বীপ।

যদিও সরকারীভাবে তারুয়া সমুদ্র সৈকতটিতে পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করা সময় সাপেক্ষ।

কক্সবাজার আর কুয়াকাটার মধ্যবর্তী জায়গায় অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকতটিকে সরকার দেশের তৃতীয় সমুদ্র সৈকত হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা ভোলাবাসীর।

 

Please follow and like us: