ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এখন মাদকের স্বর্গরাজ্য, পুলিশী অভিযানের দাবী এলাকাবাসীর

ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬ ৯:৩৪ দুপুর

বিশেষ প্রতিনিধিঃ-

ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে অভিনব কায়দায় মাদক বিক্রেতা শুভ ও হানিফ সহ ডজন খানেক উঠতি বয়সের ছেলেদের মাধ্যমে এখনো চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা। স্হানীয়দের অভিযোগ এই মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেনসিডিল ও হেরোইনের জমজমাট ব্যবসা করলেও এখনো রয়েছে তারা প্রশাসনের ধরা ছোয়াঁর বাইরে। এলাকাবাসীর দাবী অবিলম্বে এই মাদক বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ ব্যবস্হা গ্রহন করবে।

স্হানীয়দের অভিযোগ ফতুল্লা মডেল থানার অতিনিকটবর্তী দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমজমাট মাদকের ব্যবসা চলছে। অতি সম্প্রতি প্রশাসনের ব্যাপক সাড়াঁশি অভিযানে এই এলাকার বেশীর ভাগ মাদক ব্যবসায়ী গ্রুপের লোকজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দী। কেউ কেউ আত্নগোপনে আবার কেউ মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হলেও এখন মাদক ব্যবসায় প্রকাশ্যে চলে এসেছে প্রায় ডজন খানেক মাদক বিক্রেতা যাদের মধ্যে রয়েছে কামাল ওরফে বোম কামাল, ভাগিনা দেলু, শুভ ওরফে পিচ্চি শুভ, সোহান ওরফে ইয়াবা সোহান, হানিফ, লিটন চৌধুরী ও তার ছেলে রিফাত, ফারুক চৌধুরী ও তার ছোট স্ত্রী ডালিয়া, পারভীন, ডাকাত শাহীন, খাঁ বাড়ীর রাসেল, ইয়াবা মাসুদ, মাইচ্ছ্যা শাহ্জাহানের স্ত্রী ও মেয়ে, রায়হান, ইলিয়াস অন্যতম।

সুত্রে আরো জানা গেছে এই মাদক বিক্রেতারা দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের মাদক স্পর্ট চালু করে কখনো কোমলমতী শিশু কখনো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইনের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফতুল্লা পাইলট স্কুলের পূর্ব পার্শ্বের গেটে ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে কথিত যুবলীগের ক্যাডার মোক্তার ওরফে পচাঁ মোক্তারের ভাগিনা দেলুর মাধ্যমে কয়েক মাস পূর্বে থানা পুলিশ ভাগিনা দেলুকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। বেশ কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে আবার ইয়াবার ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভাগিনা দেলু। অভিযোগ পাইলট স্কুলের উত্তর পার্শ্বে ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন, ফেনসিডিলের জমজমাট ব্যবসা এখনো চলছে ফারুক চৌধুরীর স্ত্রী ডালিয়ার মাধ্যমে। পশ্চিম দিকে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে লিটন চৌধুরী, তার ছেলপ রিফাত চৌধুরী, শুভ ওরফে পিচ্চি শুভের মাধ্যমে, পাকিস্হানী বিল্ডিং খ্যাত মোড়ে ফেনসিডিল ও ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে ইয়াবা সোহান ও বোম কামালের মাধ্যমে, ইতিপূর্বে থানা পুলিশ বোম কামাল কে মাদকসহ একাধিক বার গ্রেপ্তার করলেও সহসা বোম কামাল জামিনে বের হয়ে আসে এবং ফের মাদক ব্যবসায় সক্রিয় রয়েছে। দাপা ইদ্রাকপুর রেল ষ্টেশন বটতলা, কলা বাগান, জোড়পুল, ব্যাংক কলোনী এলাকায় হানিফ, পারভীন, ডাকাত শাহীনের মাধ্যমে হেরোইন, গাজাঁ, ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেনসিডিল এর জমজমাট ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে বলে স্হানীয়দের অভিযোগ। শাহজাহান, রোলিং মিলস, খাঁ বাড়ী, মন্দির এলাকা এখনো জমজমাট ইয়াব ট্যাবলেট ও হেরোইনের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে চিহৃিত মাদক সম্রাট মাইচ্ছ্যা শাহজাহান, তার স্ত্রী, পুএ সাহজুল এবং মেয়ে স্সৃর্তির মাধ্যমে, দাপা কবরস্হান গলিতে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা এখনো অব্যাহত রয়েছে মাসুদ ওরফে ইয়াবা মাসুদ, রাসেল ওরফে খাঁ বাড়ীর রাসেলের মাধ্যমে, রেইন বো ডাইং ও ছগির মিয়ার মাঠ এবং ম্যাচ বাড়ীতে রায়হানের নেতৃত্বে ইয়াবা সেবন ও ইয়াবা ট্যাবলেটের জমজমাট ব্যবসা পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্হানীয়দের সুএে । পোষ্ট অফিস রোড এলাকায় খুচরো ও পাইকারী পরিসরে ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে ইলিয়াস নামক এক মাদক সম্রাটের নেতৃত্বে, অভিযোগ রয়েছে এই ইলিয়াস কে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ একাধিক বার বিপুল পরিমানে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক করলেও মোটা অংকের উৎকোচে পরে কয়েক পিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেখিয়ে আদালতে প্রেরন করা হয়েছিলো এবং সহসা জামিনে বের হয়ে আবারো মাদক সম্রাট ইলিয়াস তার মাদকের রাজত্ব অক্ষত রেখেছে বলে এলাকা বাসীর অভিযোগ।

নারায়নগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে তিল পরিমান আপোষ করবে না পুলিশ, তারা যতোই প্রভাবশালী হোক আর যে দলেরই হোক অবশ্যই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে, ইতিমধ্যে অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার, মাদকের বড় বড় চালান উদ্ধার সহ অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে, পুলিশের মাদক নির্মূলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে