চার্চে সন্তান জন্ম দেয়া ঠেকাতে প্রচারণা

April 5, 2016 6:24 pm

নাইজেরিয়ায় নারীরা সন্তান প্রসব করতে হাসপাতালে না গিয়ে যান চার্চে।

নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বহুল প্রচলিত প্রথা চার্চে সন্তান প্রসব করা।

আর চার্চে সন্তান প্রসব করার এই প্রথাকে বন্ধ করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে সে দেশে।

কারণ চার্চে সন্তান প্রসব করতে গিয়েই নাইজেরিয়ার অনেক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।

নাইজেরিয়ান লিনাস মার্টিন গর্ভবতী হওয়ার চার মাসের মাথায় প্রার্থনা করতে চার্চে এসেছেন। আর এখানেই তিনি সন্তান জন্ম দিতে চান।

তাঁর বিশ্বাস, সন্তান প্রসব করতে সৃষ্টিকর্তা তাকে সাহায্য করবে।

লিনাস মার্টিন বলেন, “আধুনিক চিকিৎসা সেবার চেয়ে সৃষ্টিকর্তা গর্ভবতী নারীকে বেশি সাহায্য করতে পারেন”।

নাইজেরিয় নারীরা মনে করেন, গর্ভবতী নারীকে চার্চে গিয়ে প্রার্থনা করে ও রোজা রেখে সৃষ্টিকর্তার কাছাকাছি যেতে হবে। হাসপাতালে কোনো প্রার্থণা করা হয় না। শুধু ইনজেকশন দেওয়া হয়।

রাজ্য সরকারের স্ত্রী ডা. লিন্ডা আয়াডি চার্চে নারীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সন্তান জন্ম দান বন্ধের ব্যাপারে খুবই সতর্ক। তিনি এই চর্চা বন্ধে প্রচারণা শুরু করেছেন।

ডা. লিন্ডা আয়াডি গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে যাচ্ছেন। গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে সন্তান জন্মদান করতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

তিনি নারীদের উদ্বুদ্ধ করতে উয়ানসে গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় ভাষা ইফিকে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। একজন বড় কর্মকর্তা তাদের গ্রামে এসেছে, এজন্য তারা ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে তার কথা শুনেছে।

মিস আয়াডি তার চিকিৎসক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন গ্রামবাসীর মাঝে।

ডা. আয়াডি বলেন, অনেক নারী সংকটময় মুহূর্তে হাসপাতালে আসে। তখন আর কিছু করার থাকে না। অনেক নারী হাসপাতালে আসার পথেই মারা যান”।

ডা. আয়াডি গ্রামবাসীকে মুগ্ধ করতে পেরেছেন। প্রার্থণার সময়ও ভিড় কমেনি।

তবে গ্রামবাসীদের সঙ্গে সন্তান জন্মদানের সঙ্গে প্রথাগত বিশ্বাস গভীরভাবে জড়িত। সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা খুবই কঠিন।

ল্যান্ড অফ প্রমিজ চার্চে নারীরা প্রার্থণা করতে ও সন্তান প্রসব করতে ভিড় জমান।

এ চার্চের সিস্টার ইনডোরেইন সামবোর সন্তান প্রসব করান। এই কাজ তার মাও করতেন। মায়ের কাজটি এখন তিনি করছেন।

মিস ইনডোরেইন বলেন, আমি আগে মাকে সন্তান প্রসব করাতে সাহায্য করতাম। এই কাজের দায়িত্ব ঈশ্বর আমাকে দিয়েছেন। ঈশ্বরই আমাকে সাহায্য করেন”।

২৬ বছর বয়সী মারসি মার্টিন উদোফিয়া আট মাসের গর্ভবতী। তিনি প্রথম সন্তান জন্ম দেবেন।

তিনি বলেন, “আমি চার্চেই আমার প্রথম সন্তান জন্ম দিবো। এমনকি দ্বিতীয় সন্তানও চার্চেই জন্ম দিতে চাই”।

সম্প্রতি ক্যালাবারে এক নারী চার্চে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা গেছেন।

দেশটির প্রাথমিক স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বেট্টা ইডু বলেছেন, চার্চে সন্তান প্রসব বন্ধ করতে সরকার শিগগিরই একটি আইন পাস করবে। আইন পাস করলে চার্চে সন্তান প্রসব করানোর প্রবণতা কমবে। এজন্য প্রত্যেক এলাকায় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষের ধ্যান ধারণায় পরিবর্তন আনতে সবার সম্মিলিতভাবে প্রচুর কাজ করতে হবে”।

ডা. লিন্ডা আয়াডি বলেছেন, ‘আমাদের জনগণ গভীরভাবে ধর্ম বিশ্বাস করেন। প্রথাগত বিশ্বাসকেও প্রবল প্রাধাণ্য দেন। তাদের শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

Please follow and like us:

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*