গাজীপুর মহানগরীর বেকারীগুলো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কাই করছে না

May 31, 2016 10:02 am

মোঃ জাহাঙ্গীর আলমঃ

নিত্য প্রয়োজনীয় খদ্য সামগ্রী তৈরীতে দেশের বেকারীগুলো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কাই করছে না। যেমনি-তেমনি ভাবে অস্থাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের এই বেকারী ব্যবসা পরিচালনা করছে। আর সেই সব খাবার আমরা খাচ্ছি এবং আমাদের সন্তানদের খাওয়াচ্ছি। যার ফলে রোগ আমাদের সন্তানদের পিছনে লেগেই থাকে। কোন কোন বেকারী কিছুটা নিয়ম মানলেও অধিকাংশ তার ধারে-কাছেও নেই। ব্যবসায় অধিক লাভের আশায় তারা ভূলে গেছে যে, এই খাদ্যসামগ্রীগুলো মানুষ খায়।

bekari7

গাজীপুর মহানগরীর টংগীস্থ আরিচপুর আকলিমা বেকারীতে গিয়ে দেখা যায়, যত্রতত্র পড়ে আছে রুটি-বিস্কুট ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরীর বান্ডো। কর্মচারীরা তারা যখন যে কাজ করে তখন সেদিকেই খেয়াল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। এক শ্রমিককে জিজ্ঞাসা করা হলে সে কথা বলতে নারাজ। সে সাফ জানিয়ে দেয় মালিকের নিষেধ আছে। ম্যানেজারের চেয়ারে বসে থাকা শ্রমিক জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, আমি সাধারণ শ্রমিক আমি এর চেয়ে বেশি কিছু জানিনা। মালিকের নাম জানতে চাইলে সে মালিকের নামও জানেনা বলে জানিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে আশেপাশের লোকজনের মাধ্যমে মালিকের নাম ও মোবাইল নম্বর যোগাড় করে ফোন দিলে তার নামা জানা যায় জহির। তিনি বাসা থেকে এসে সাংবাদিকদের উপর বেজায় নাখোশ। তার ভাষ্য বেকারী এর চেয়ে বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয় আর বেকারীর খাবারের মানও এমনই ছিল এবং এমনই থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই যুগযুগ ধরে চলে আসছে এভাবেই চলবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হয় সে তার সন্তানদের এই কেক, বিস্কুট, রুটি খাওয়াই কিনা? সে জানায় এত কথা বলার সময় নাই বলে সে সাংবাদিকদের পাশ কাটায়। তার আশেপাশের বেকারীরও একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিএসটিআই অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে আছে বলে জানায় বেকারী মালিক। কাগজপত্র দেখতে চাইলে সব কাগজপত্র বাসায় বলে জানায় তারা। আবার কারো কারো রয়েছে মেয়াদ উত্তীর্ণ কাগজপত্র।

bekari6

গাজীপুরার ডেন্ডি বেকারীতে গিয়ে দেখা গেছে আরো নাজুক অবস্থা। বেকারীর মালিক হাজী আকবর অত্যন্ত ধার্মিক মানুষ। তিনি বেকারীর পিছনে সময় দেন খুব কম। ম্যানেজার জানায় স্যার বিকাল থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে চলে যায়। হাজী আকবর সাহেবকে বেকারীর অবস্থা সম্পর্কে মোবাইলে কল দিলে তিনি সাংবাদিক জানার পর মাগরিবের নামাজের পর কথা বলবেন বলে জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি এব্যাপারে আর কোন কথা বলতেই রাজী হননি। উল্লেখ্য যে, ডেন্ডি বেকারী গত বছরের মাঝামাঝি সময় মোবাইল কোর্টের হাতে ধরা পড়ে প্রায় ২-৩ লাখ টাকা জরিমানা দিলেও তাতে শুধরায়নি এই বেকারীর মালিক। বরং আরো কোমর বেঁধেই অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নভাবে বেকারী আইটেম তৈরী করছে। ডেন্ডি বেকারীর আশেপাশের বেকারীগুলোতেও একই অবস্থা। কোন বেকারীর বিএসটিআই অনুমোদনের কাগজপত্র নেই, থাকলেও মেয়াদ উত্তীর্ণ। গাজীপুরের কলেজ গেইট, বোর্ড বাজার, ভোগরা, জয়দেবপুর, কোনাবাড়ী, চৌরাস্তাসহ সব এলাকার বেকারীর মান একই।

আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারগুলো অতীব দরকারী। তাই ভেতরের অবস্থা হয়তো দেখার সময় কারো নেই। আর যারা বেকারীর অবস্থা জানে তাদের অনেকেই বেকারী আইটেম খাওয়াই ছেড়ে দিয়েছে। কিন্ত বেকারীর খাবার ছেড়ে দেয়াই তো সঠিক সমাধান নয়। বেকারীগুলোর আশেপাশের লোকজনকে এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানায়, আমাদের আর কি করার, বাধ্য হয়েই আমরা এসব খাচ্ছি। যদি সরকার নিয়মিত কোন পদক্ষেপ পরিচালনা করে তাহলেই কেবল এর মান উন্নত করা সম্ভব বলে মনে করে।

বেকারীগুলোর মান উন্নত রাখার ব্যাপারে সরকারের কঠোরতাই কেবল তাদের শুধু ব্যবসায়ীক মন থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতঃ কিছু বেকারী মালিককে আইনের আওতায় আনলেই বাকী সব বেকারী মালিক সতর্ক হবে বলে বিশ্বাস সবার। শুধু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করে ছেড়ে দিলে আরো বেপরোয়া হয়ে জরিমানা উদ্ধারের দিকে ঝুকে পড়ে ব্যবসায়ীরা। তাই সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অতিমাত্রার অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন বেকারীগুলো বন্ধ করে দি্যে বেকারী মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই কেবল অন্যান্য ব্যবসায়ীরা সতর্কভাবে বেকারী ব্যবসা করবে বলে সাধারণ মানুশ বিশ্বাস করে।

Please follow and like us:

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*