ভোলায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য ৪ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

May 31, 2016 11:27 am

এম এ হান্নান, বরিশাল:

ভোলার লালমোহনে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য ৪ মাস পর কবর থেকে গৃহবধুর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাবার বাড়ি থেকে ম্যাজিষ্ট্রেট জিয়াউল হকের উপস্থিতিতে গৃহবধু শারমিন আক্তার শিলার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। বরিশাল সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ভোলার আদালত লাশ উত্তোলন করে দ্বিতীয়বার ময়না তদন্তের আদেশ দেন। জানা গেছে, লালমোহন ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আলি মিয়া হাওলাদার বাড়ির ছালাউদ্দিন হাওলাদারের মেয়ে শিলাকে ৪ বছর পূর্বে বিয়ে দেওয়া হয় বোরহানউদ্দিন উপজেলার দালাল বাজার এলাকার দালাল বাড়ির আওলাদ মিয়ার ছেলে তারেকের সাথে। বিয়ের পর শিলার বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে বিদেশ যায় তারেক। সেখান থেকে ফিরে এসে ঢাকা এক কোম্পানীর সাথে বিদেশ লোক পাঠানোর ব্যবসা করে। কিন্তু সংসারে পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয় শশুর, শাশুড়ি ও দেবরের অত্যাচারে। তার উপর স্বামীর যৌতুক দাবী। শিলার দেড় বছরের সন্তান রাহেলকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকতো সে। গত ২৫ জানুয়ারি শিলার বাবার বাড়িতে খবর দেওয়া হয় শিলা গলায় ওড়না পেছিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ ভোলায় নিয়ে লাশের ময়নাতদন্তও করে সেসময়। শিলার বাবা ছালাউদ্দিন হাওলাদার তার মেয়েকে নির্যাতন করে লাথি মেরে হত্যা করা হয়েছে বলে বোরহানউদ্দিন থানায় স্বামী তারেক, শশুড় আওলাদ, শাশুড়ি শিরিন আক্তার ও দেবর কাবিরুল আলম তৌফিকসহ ৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। মামলা নং- ৮, তারিখ ৯/২/১৬। পরে ভোলা সদর হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যা বলা হলেও শিলার বাবা ওই রিপোর্টকে প্রভাবিত বলে দাবী করে পূণরায় স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর দফতরের সহায়তায় মামলাটি বরিশাল সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৯ মে বরিশাল সিআইডি পুলিশের সাবঃ ইন্সপেক্টর জিয়াউল হক মামলাটি তদন্তের দায়ীত্ব পান। পূণঃ তদন্তের স্বার্থে দ্বিতীয় দফা শিলার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার ভোলার ম্যাজিষ্ট্রেট জিয়াউল হকের উপস্থিতিতে লালমোহন ফরাজগঞ্জ ১নং ওয়ার্ড থেকে শিলার লাশ উত্তোলন করে ভোলা প্রেরণ করা হয়। এসময় মামলার দন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সাবঃ ইন্সপেক্টর জিয়াউল হক ও লালমোহন থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*