বন্যার্তদের সহযোগিতায় কাজ করছেন সেনা সদস্যরা

August 15, 2017 1:08 pm

নিউজ ডেক্সঃ

ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বন্যার কবলে সোমবার মৃত্যু হয়েছে আরও ১৪ জনের। এ নিয়ে বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৩ জনে। আজ সোমবার মৃত্যু হওয়া ১৪ জনের মধ্যে দিনাজপুরে পাঁচজন, কুড়িগ্রামে সাতজন ও লালমনিরহাটে ২জন।

দিনাজপুর : দিনাজপুরে বন্যার তৃতীয় দিনে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলায় দুইজন, নবাবগঞ্জ উপজেলায় দুইজন এবং বিরল উপজেলায় একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গেছে। বীরগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে মোঃ আমানুল্লাহ (১০) এবং আমির হামজা (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার নবাবগঞ্জ উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামে মতিয়ার রহমান (৬০) নামে এক ব্যাক্তি পানিতে ডুবে এবং একই উপজেলার জয়দেবপুর গ্রামে জোনাব আলী (৬৫) নামে অপর এক ব্যাক্তি দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছে।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মাটিয়াইন গ্রামে পানিতে ডুবে এক কন্যা শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে দিনাজপুরে বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮ জনে। এর আগে রোববার দিনাজপুরে মারা যায় ১৩ জন।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে পানিতে ডুবে সোমবার আরও ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতরা হলেন-উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের বগাপাড়া গ্রামের আলীর পুত্র নাজমুল ইসলাম (৭), ফুলবাড়ী উপজেলার ঘোগারকুটি এলাকার রইচ উদ্দিনের স্ত্রী হালিমা বেগম (৩৫) ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের নজরমামুদ গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আজাহার আলী (৭০), নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জে মিজানুরের প্রতিবন্ধী পুত্র আবদুল করিম ওরফে মনসুর (১৪) ও ফান্দের চর জামাল গ্রামের কোরবান আলীর কন্যা প্রতিবন্ধী ফুলবানু (৩১), ভুরুঙ্গামারীর দেওয়ানের খামার এলাকার জামাল উদ্দিনের পুত্র মজিবর রহমান (১৫) এবং উলিপুরের বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার বানভাসা রহমান (৬৫)।
লালমনিরহাট: লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ধরলার তীরে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ভেলাডুবির ঘটনায় আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের পূর্ব বডুয়া গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এ নিয়ে মোট তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হল। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- পূর্ব বডুয়া গ্রামের আবদুল হামিদ ওরফে সামাদের স্ত্রী আছমা বেগম নাসিমা ও একই গ্রামের মোজাম উদ্দিন রবিউলের ছেলে আলিফ। নিখোঁজ রয়েছেন মোজাম উদ্দিন রবিউল।

এদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির অবস্থায় উত্তরের ছয়টি জেলায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যার্তদের সহযোগিতায় কাজ করছেন সেনা সদস্যরা।

সেনাবাহিনী মোতায়েন করা ছয়টি জেলা হলো: ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সোমবার বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আজ সকালে স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে গাইবান্ধা সদরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সেখানকার বাঁধ পুনঃনির্মাণে সেনাবাহিনীর তিন প্লাটুন সদস্য পাঁচটি স্পিডবোট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উদ্ধার সামগ্রীসহ মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়াও ১৯ পদাতিক ডিভিশন হতে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষক দল আজ সিরাজগঞ্জের বন্যা দুর্গত এলাকা কাজিরপুর উপজেলার বাহুকায় যায় এবং দুর্গত এলাকা পর্যবেক্ষণ করে।

আইএসপিআর জানায়, পরিস্থিতি বিবেচনা করে বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে যেকোনো সময় সেনাবাহিনীর আরও সদস্য বন্যা দুর্গত এলাকায় দ্রুততম সময়ে অংশগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যা কবলিত হয়ে তলিয়ে গেলে সরকারের নির্দেশে জনস্বার্থে প্রাথমিকভাবে গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় ৬৬ পদাতিক ডিভিশন হতে এক প্লাটুন সেনাসদস্য ঠাকুরগাঁও শহরে মোতায়েন করা হয়। এই সেনাসদস্যরা রাতভর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

পরবর্তী সময়ে ১৩ আগস্ট সকালে প্রাথমিকভাবে দিনাজপুর সদর ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় দুই প্লাটুন করে সেনাসদস্য উদ্ধার কাজে মোতায়েন করা হয়। বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে গতকালই পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারের জন্য আরও অধিকসংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়।

বর্তমানে দিনাজপুর সদরে তিনটি প্লাটুন ও গঙ্গাচড়া উপজেলায় এক কোম্পানি সেনাসদস্য বন্যা দুর্গত মানুষে সাহায্যে কাজ করে যাচ্ছে। এই এলাকা দুটিতে সেনাবাহিনী দুই শতাধিক বন্যা দুর্গত মানুষকে উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ গবাদি পশু ও গৃহস্থালি সামগ্রী উদ্ধার করেছে।

এছাড়াও গত ১৩ আগস্ট সৈয়দপুরে বাঁধ রক্ষা কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দুই প্লাটুন সেনাসদস্য নিয়োগ করা হয়। এই সেনাসদস্যরা সফলভাবে বাঁধ রক্ষা কাজ সম্পন্ন করে সন্ধ্যায় সেনানিবাসে প্রত্যাবর্তন করেন।

Please follow and like us: