পবিত্র কুরআন-হাদীস ও ইতিহাসের আলোকে পবিত্র আশুরা

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭ ৪:৩৬ দুপুর

ধর্মীয় ডেক্সঃ

পবিত্র কুরআন-হাদীস ও ইতিহাসের আলোকে, ১০ ই মহররম পবিত্র আশুরা। ১০ ই মহররম পবিত্র আশুরার দিন। এ দিন সকল মুসলমানের জন্যই এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমাদের দেশে কিছু মুসলমান ভাই বোনেরা মনে করেন যে, আশূরা শুধু মাত্র শিয়াদের কোন অনুষ্ঠান। আসলে আশুরা সকল মুসলমানের অনুষ্ঠান। আশূরার দিনটি সকল সৃস্টি জগতের জন্য রহমতের দিন। কারণ, মহান আল্লাহ আসমান ও জমিনের সকল সৃষ্টি সৃজন করে পবিত্র আশুরার দিনে আরশে অধিষ্ঠিত হন। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে বলেন –
الذي خلق السموات والارض وما بينهما في ستة ايام ثم استوي علي العرش

অর্থাৎঃ “তিনি ( আল্লাহ) আসমান ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন। (সূরা-আল ফোরক্বানঃ আয়াত ৫৯)

মহান অাল্লাহ্ পবিত্র আশুরার দিনেই সকল সৃষ্টির প্রতিপালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাই তিনি সকল রূহকে প্রশ্ন করেন, ” أ لست بربكم ”
“আ লাসতু বি রাব্বিকুম” অর্থাৎঃ আমি কি তোমাদের প্রভু নই ??? সেদিন সকল রূহ উত্তর দিয়ে বলেছিল… قالو بلي অর্থাৎঃ ” হ্যাঁ , আপনি আমাদের প্রতিপালক।”

আশুরার দিন আল্লাহর প্রতিপালক হিসেবে অভিষেকের দিন বিধায়, সেইদিন পাপী-তাপী মানুষের ক্ষমা, শান্তি ও মুক্তি লাভ করার দিন। তাই এই দিনে বেশী বেশী এবাদত বন্দেগী করে নিজের মুক্তির লাভের ব্যবস্হা সহজতম সুযোগ।

পবিত্র আল কুরআন, হাদীস ও ইতিহাস পর্যালোচনা করেও দেখা যায় পবিত্র আশুরার দিনে অসংখ্য উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি রয়েছে। তাই সংক্ষেপে আশুরার দিনের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ
.
**এই দিনে নুরে মোহাম্মাদীকে সৃস্টি করা হয়।
**আদম(আঃ)কে সৃষ্টি করা হয়েছে ১০ই মহররম।
**১০ই মহররম আদম(আঃ)কে বেহেশতে প্রবেশ করানো হয়েছে।
**আশুরাতেই আদম(আ.)কে বেহেশত থেকে দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে।
**আদম(আ.)এর তওবা কবুল করা হয় এই আশুরাতেই।
**মা হাওয়া(আ.)এর সাথে আদম (আ.) পুনরায় সাক্ষাত হয় এই ১০ই মহররম।
**আসমান-জমিন সৃষ্টি করা হয়েছে মহররম মাসেই।
**চাঁদ-সূর্য,গ্রহ-নক্ষত্র,পাহাড়-পর্বত, সাগর-মাহাসাগর সৃষ্টি করা হয় এই মহররম
মাসেই।
**আশুরাতেই জন্ম গ্রহণ করেন ইব্রাহীম (আ.)।
**আশুরাতেই হযরত মূসা(আ.) এবং আল্লাহপাকের মধ্যে কথোপকথোন হয়েছিল।
**হযরত মূসা(আ.) এর উপর তৌরাত কিতাব নাজিল হয়েছিল এই আশুরাতেই।
**আশুরাতেই মূসা(আ.)তার সাথীদের নিয়ে নীল নদ পার হন এবং ফেরাউন
বাহিনী পানিতে ডুবে মরে।
**হযরত আইয়ুব(আ.)দীর্ঘ ১৮ বছর কঠিন রোগ ভোগের পর সুস্থ হয়ে উঠেন এই আশুরার দিনে।
** হযরত সোলায়মান(আ.) পুনঃবাদশাহী লাভ করেন আশুরাতেই।
**আশুরাতেই দাউদ(আ.)এর তওবা কবুল করা হয়।
** হযরত ইউছুফ(আ.)তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আ.)এর সাথে মিলিত হন এই আশুরাতেই।
** হযরত ইসা(আ.)জন্ম গ্রহণ করেন আশুরাতেই।
** হযরত ইসা(আ.)কে আল্লাহপাক সশরীরে আসমানে তুলে নেন এই আশুরাতেই।
** আশুরাতেই আল্লাহপাক হযরত ইদ্রিস (আ.)কে জীবিত করেন এবং তাকে জান্নাতে উঠিয়ে নেয়া হয়।
** হযরত নূহ(আ.)এর জাহাজ চল্লিশ দিন পর পাহাড়ের কিনারে ভিড়ে পবিত্র আশুরার দিনেই।
** আশুরাতেই হযরত নূহ(আ.)জমিনে অবতরণ করেন।
** আশুরাতেই উম্মতে মুহাম্মদীর গুনাহ মাফ হয়।
** আল্লাহপাক দুনিয়াতে প্রথমবার রহমত নাজিল করেন ও রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন আশুরাতেই।
** হযরত ইউনুস(আ.)মাছের পেট থেকে বের হয়ে আসেন আশুরাতেই।
** আশুরার দিনেই প্রায় ২০০০ (দুই হাজার) নবী রাসুল দুনিয়াতে জন্মগ্রহন করেন।
** আশুরার দিনেই কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাঈন (রাঃ) নবী পরিবারের ৭২ জন সঙ্গী-সাথীদেরকে নিয়ে শাহাদাত বরন করেন।

আরো অনেক কিছুই এই আশূরাতেই হয়। তাই এই দিনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।