টাইগারদের বিপক্ষে দক্ষিন আফ্রিকার দ্বিতীয় টেস্ট আজ

অক্টোবর ৬, ২০১৭ ৩:৪৫ সকাল

স্পোর্টস ডেক্সঃ

চলতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পচেফস্ট্রুমে প্রথম টেস্টে ব্যাটিং উইকেটে ৩৩৪ রানের বিশাল ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯০ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।

প্রথম টেস্টে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে। এবারের চ্যালেঞ্জ আরো বড়। কেননা ইনজুরির কারণে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ তামিম ইকবালের টেস্ট সিরিজ শেষ। এমনি অবস্থায় ব্লুমফন্টেইনের পেস ও বাউন্সসর্বস্ব উইকেটে আজ শুক্রবার দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের কঠিন চ্যালেঞ্জে নামছেন মুশফিকুর রহিম ও তার সহযোদ্ধারা।

এমনিতেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট পারফরম্যান্স বাজে। বলা বাহুল্য, পাঁচ টেস্টের প্রতিটিতেই হেরেছে টাইগাররা। এর মধ্যে প্রথম চার টেস্টের হার ইনিংস ব্যবধানে। এবার পচেফস্ট্রুমে ফলোঅন এড়ানোটাই বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি। আরো সহজ করে বললে, গত টেস্টে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিক প্রোটিয়াদের ব্যাটিংয়ে নামাতে পেরেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। ব্লুমফন্টেইনে গতিপথ পাল্টে দেয়ার চ্যালেঞ্জে দুদুটো বড় বাধা মুশফিক বাহিনীর সামনে। সাকিব-তামিম একসঙ্গে দলের বাইরে, আর ব্লুমফন্টেইনের পেসবান্ধব উইকেট।

সাকিব-তামিম দুজনের না থাকাটাকে ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ কাণ্ডারি মুশফিক। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আপনার সেরা দুজন প্লেয়ার যখন থাকবে না, তখন অবশ্যই এটা বড় এক ধাক্কা। যেহেতু প্রথম টেস্টে আমরা খুব বাজেভাবে হেরেছি। তাই এই দুজনকে খুব দরকার ছিল।’

সাকিব-তামিম একসঙ্গে টেস্ট দলের বাইরে থাকার এমন ঘটনা চার বছর পর। সর্বশেষ তামিম-সাকিব ছাড়া বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল ২০১৩ সালে। তবে স্বাগতিক শ্রীলংকার বিপক্ষে ওই টেস্টে ড্রয়ের গৌরব নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ থেকে প্রেরণা পাচ্ছেন মুশফিক।

তিনি বলেছেন, এ দুজনকে ছাড়া আমরা চার বছর আগে গল টেস্টে খেলেছিলাম। ম্যাচটি আমরা ড্র করেছিলাম। কাজটা আমাদের জন্য বেশ কঠিন ছিল। কেননা বর্তমান দলের চেয়ে ওই সময়ের শ্রীলংকা ছিল অনেক শক্তিশালী।’ সাকিব-তামিমের শূন্যস্থান দলের বাকিরা পূরণ করবেন বলে আস্থাবান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে সবচেয়ে আলোচনায় ব্লুমফন্টেইনের বাউন্সি উইকেট। ঐতিহ্যগতভাবেই এই মাঠ পেসারদের স্বর্গরাজ্য। এদিকে স্বাগতিক অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিও চেয়েছেন তার গতিময় উইকেট। ব্লুমফন্টেইনের উইকেট সম্পর্কে ভেনু কিউরেটর নিকো প্রিটোরিয়াস জানান, পচেফস্ট্রুমের চেয়ে এই উইকেট আলাদা। এ উইকেটে বাউন্স থাকবে। প্রথম টেস্টের মরা উইকেটে প্রোটিয়া ফাস্ট বোলারদের সামলাতে নাকের পানি চোখের পানি এক হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। স্বাগতিকদের বাউন্সারে বিপর্যস্ত হয়েছে টাইগাররা।

তামিম-সাকিবের মতো পরীক্ষিত যোদ্ধাদের ছাড়া বাউন্সার সামলানোর অগ্নিপরীক্ষা এখন মুশফিক বাহিনীর সামনে। চ্যালেঞ্জটা কত বড়, সেটা অনুধাবন করার জন্য একটা তথ্যই যথেষ্ট। ব্লমফন্টেইনে বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল ২০০৮ সালে। তখন দুই ইনিংসে সংগ্রহ ছিল যথাক্রমে ১৫৩ ও ১৫৯ রান।

এ মাঠের সর্বনিম্ন রানের দুটি ইনিংসই বাংলাদেশের। এই মাঠে চারশর নিচে কখনই অলআউট হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। তো সবদিক থেকে পিছিয়ে থেকেই সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামছেন মুশফিকরা।