আরাকানে রয়েছে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ঐতিহ্য বাহী ইতিহাস-পর্ব ১

October 11, 2017 4:36 pm

মোঃ খোকন প্রধান, চীফ রিপোর্টার

আজকের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমার আরাকানে রয়েছে গৌরবময় অতীত ইতিহাস, এক সময় আরাকান রাজ্যের রাজা বৌদ্ধ হলেও তিনি মুসলমান উপাধি গ্রহন করতেন। তার শাসনামলে আরাকানের মুদ্রায় ফার্সী ভাষায় লেখা থাকতো কালেমা, আরাকানের রাজ দরবারে কাজ করতেন অনেক বাঙালী মুসলমান আর বাংলার সঙ্গে মিয়ানমার (বার্মা) আরাকানের ছিল গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক। ১৪০৬ সালে আরাকানের স্রাউক -উ- রাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা নরমিখলা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে বাংলার তৎকালীন রাজধানী গৌড়ে চলে আসেন, গৌড়ের শাসক জালালুদ্দীন শাহ্ নরমিখলার সাহায্যে ৩০ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে তাকে বিতাড়িত বর্মী রাজা কে উৎখাতে সহায়তা করেন, নরমিখলা পবিএ ইসলাম ধর্ম কবুল করেন ও পরে সোলায়মান শাহ্ নাম নিয়ে আরাকানের সিংহাসনে বসেন।স্রাউক-উ- রাজবংশ ১০০ বছর মিয়ানমার (বার্মা)র আরাকান শাসন করেছে, এর ফলে সেখানে মুসলিম ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবি, কবি, শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি পায় আর মধ্য যুগে বাংলা সাহিত্যে চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ন কেন্দ্র ছিল রোসাং রাজ দরবার (বর্তমান আরাকান)।

মহা কবি আলাওলা রোসাং দরবারের রাজ কবি ছিলেন, তিনি লিখেছেন মহাকাব্য পদ্নাবতী এছাড়া সতী ময়না, লোর চন্দ্রানী, সয়ফুল মূলক, জঙ্গ নামা প্রভূতি গ্রস্হ রচিত হয়েছিল আরাকানের রোসাং রাজ দরবারের আনুকুল্যেও পৃষ্ঠ পোষকতায় সুএ রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস, এন এম হাবিব উল্ল্যাহ্। সুএে আরো জানা গেছে যে সপ্তম -অষ্টম শতাব্দীতে রোহিঙ্গা জন গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়, প্রাথমিক ভাবে মধ্য প্রাচ্যীয় মুসলমান ও স্হানীয় আরাকানীদের সংমিশ্রনে রোহিঙ্গা জাতির উদ্ভব, পরবর্তী সময়ে চাটগাইঁয়া, রাখাইন -আরাকানী, বার্মিজ, বাঙালী, ভারতীয়, মধ্য প্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও দঃ পূর্ব এশিয়ার মানুষের সংমিশ্রনে এই জাতি এয়োদশ চর্তুদশ শতাব্দীতে পুর্নাঙ্গ জাতি হিসাবে আত্নপ্রকাশ করেন বলে জানা গেছে । রোহিঙ্গাদের বসবাস স্হল রাখাইন রাজ্যে,এর আদি নাম আরাকান, এই নাম করন স্নরন করিয়ে দেয় মুসলিম ঐতিহ্যের কথা কারন ইসলামের পাচঁটি মূল ভিওিকে একএে বলা হয় আরকান আর এই আরকান থেকেই মুসলমান দের আবাস ভূমির নাম করন করা হয় “আরাকান ” আর এই আরাকানে মুসলমান রা বার্মীজ মগ দের চেয়েও সু -প্রাচীন, বর্মীদের কয়েক বছর আগে থেকে সেখানে মুসলমান দের বসবাস, আরাকানে দশ কিংবা বারো শতকের আগে বর্মীদের অনুপ্রবেশ ঘটেনি (Harvey, g e, Hisfory of Burma -p, 137-313) উল্লেখ্য করা রয়েছে।

সপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে বেচেঁ যাওয়া লোকজন পাশ্বর্বর্তী উপকুলে আশ্রয় নেন, তারা বলেন আল্লাহর রহমতে বেচেঁ গেছি, সেই ‘রহম থেকেই রোহিঙ্গা জাতির উদ্ভব কিন্তুু আগে রোসাং ও রোয়াং শব্দ অধিক পরিচিত ছিল এক কালের চট্রগ্রামের মানুষ। রোয়াং যেত উর্পাজনের জন্য, চট্রগ্রাম দীর্ঘ দিন আরাকানের অধীনে ছিল ঐতিহাসিক বিদ আহম্মদ শরীফ লিখেছেন চট্রগ্রাম গোড়া থেকেই সম্ভবত আরকানী শাসনে ছিল আর ৯ শতকের শেষ প্রাদে ৮৭৭ অব্দের পূর্বে কোনো সময়ে সমগ্র সমতট আরকানী শাসন ভূক্ত ছিল বলে (আহম্মদ শরীফ, চট্রগ্রামের ইতিহাস পৃষ্ঠা ২৯) সুএে জানা গেছে । আরাকানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে, ইতিহাস বলছে যে, রোহিঙ্গারা ই আরাকানের ভূমিপুএ, ১৪৩০ সাল থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গ মাইল আয়তনের আরাকান স্বাধীন রাজ্য ছিল, ১৭৮৫ সালের প্রথম দিকে মিয়ানমারের তৎকালীন রাজা ভোধা পোয়া এটি দখল করে বার্মার (মিয়ানমার) করদ রাজ্যে পরিনত করেন,১৭৯৯ সালে প্রকাশিত বার্মা সাম্রাজ্যেতে ব্রিট্রিশ ফ্রাঞ্চিজ বুচানন হ্যামিল্টন তার লেখায় এটি উল্লেখ্য করেন, মুহাম্মদুর রাসুল্লাহ্ (সাঃ)এর অনুসারী মুসলিম যারা অনেক দিন ধরে আরকানে বাস করছে, তাদের রুইঙ্গা (Ruoinga)বা আরাকানের স্হায়ী বাসিন্দা কিন্বা আরাকানের মূল নিবাসী (Native of Arakan)বলা হয়েছে, মগ জাতি কখনো ই আরাকানের স্হায়ী বাসিন্দা বা মূল নিবাসী ছিল না বলে উল্লেখ্য রয়েছে।

আরাকান ছিল বরাবরই স্বাধীন ও অতিশয় সমৃদ্ধ একটি দেশ, বাংলায় প্রার্চুযের কারনে যেমন ১৫০০ সালের দিকে ইউরোপীয়দের আগমন ঘটে তেমনি ১৫০০ সালের মাঝা মাঝি থেকে ১৬০০ সালে আরাকানে পর্তুগীজ ওলন্দাজদের আগমন ঘটে। আর ১৬০০ সালে ওলন্দাজ রা আরাকান থেকে দাস ও চাউল সংগ্রহ করতো, আর আরাকানে তারা নিয়ে আসতো লোহা ও লৌহ জাত সামগ্রী (চলমান পর্ব ১)।