জিন্নাহর কারনে আরাকান হতে পারেনি বাংলাদেশের সাথে যুক্ত!

October 16, 2017 12:33 am

মোঃ খোকন প্রধান, চীফ রিপোর্টার

আজকের নির্যাতিত আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমান দের রয়েছে এক গৌরব ময় অতীত ইতিহাস, একসময় আরাকান রাজ্যের রাজা বৌদ্ধ হলেও তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন এবং সোলায়মান শাহ্ নাম নিয়ে রাজ্য শাসন করতেন। তার শাসনামলে আরাকানের মুদ্রায় ফার্সী ভাষায় লেখা থাকতো “কালেমা” এই সংক্রান্ত আমার বিশেষ প্রতিবেদনের আজ শেষ পর্ব । মিয়ানমারের বর্তমান বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের আগের নাম ছিল “মগ “, আর এই মগরা ঐতিহাসিক ভাবেই বর্বর একটি জাতি ছিল, মগ দস্যুরা বাংলার উপকূল এলাকা থেকে সাধারন লোকজন দের ধরে নিয়ে টাকার বিনিময় অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিতো বলে জানা গেছে।

মগদের বর্বরতার সংক্ষিপ্ত বিবরন পাওয়া গেছে, আহম্মদ শরীফের লেখায়, তিনি লিখেছেন মগ জল দস্যুরা জলপথে বাংলার ভূলুয়া, সন্দ্বীপ, সংগ্রাম গড়, বিক্রমপুর, সোনারগাঁও, বাকলা, যশোর, ভূষনা ও হুগলী এলাকায় ডাকাতি লুন্ঠন করতো একসময়। তারা এসব অঞ্চলের নিরীহ মুসলমান -হিন্দু ধর্মের ছোট-বড় নির্বিশেষে সকল কে জিম্মী করে ধরে নিয়ে যেতো এরপরে তারা ধৃতদের হাতের তালু ফুড়েঁ বেত চালিয়ে গরু-ছাগলের মতো বেধেঁ তার পরে নৌকার পাটাতনের ঠাঁই দিতো,  এক কথায় মুরগীকে যেভাবে দানা ছিটিয়ে দেওয়া হতো সেভাবেই এসব মানুষ কে চূাউল ছুড়েঁ দিতো খাবারের জন্য। আর এধরনের নির্যাতন ও নিপীড়নের পরে যারা বেচেঁ থাকতো তাদের কে মগ জল দস্যুরা ভাগ করে নিতো এবং পর্তুগীজে দাস হিসাবে বিক্রি করে টাকা উর্পাজন করতো (চট্রগ্রামের ইতিহাস, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫১) এর উল্লেখ্য রয়েছে ।

 

১৫৩১ সালে আরাকানের রাজা জেবুক শাহ্ পর্তুগিজ নৌসেনাদের সহায়তার জন্য আরাকানে একটি নৌবাহিনী গঠন করেন, আর এতে তার উদ্দেশ্য ছিল মোগলদের হাত থেকে আরাকান কে রক্ষা করা, নৌ-সেনাদের মোকাবেলা। তাই জেবুক শাহ্ তার নৌ বাহিনীতে আরাকানের মুসলমানদের পরিবর্তে মগদের স্হান দিয়েছিলেন কিন্তুু পরে এরা মানবিকতা বিবর্জিত হিংস্র জল দস্যুতে পরিনত হয়েছিল। আরাকানের পতন কাল শুরু হয় ১৬৬০ সালে আরাকানের রাজা চন্দ্র সু- বর্মা কর্তৃক মোগল রাজপুএ শাহ্ সুজা কে হত্যার মধ্য দিয়ে । এরপর দীর্ঘ সময় ধরে আরাকানে বিরাজ করে অস্হিরতা মাঝ খানো শান্তি ফিরে এলেও আরাকানী সামন্ত রাজাদের মধ্যে কোন্দল দেখা যায়, আর সেই সুযোগে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা ভোধাঁপোয়া আরাকান দখল করে নেয় । রাজা ভোধাঁ পোয়ার অত্যাচারে আরাকানের রাজা ঘা থানবি পালিয়ে কক্সবাজারে এসে আশ্রয় নেয়, বর্মীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন, তার মৃত্যুর পর তার ছেলে সিনপিয়ার নেতৃত্বে আরাকান বিদ্রোহ তুঙ্গে পৌঁছায় ।

 

১৮১১ সালে সিনপিয়ার বাহিনী রাজধানী ছাড়া গোটা আরাকান দখলে নিলেও পরে পরাজিত হয় বর্মী রাজার সেনাদের কাছে, আরাকানের বিদ্রোহ দমনের জন্য বর্মী রাজা ১৮১১ সালে গোটা বার্মায় প্রত্যেক পরিবার থেকে একজন যুবক, তৎকালীন সময়ের ২৫০ টাকা, একটি বন্দুক, ১০ টি চকমকি পাথর, দুই সের বারুদ সম ওজনের সিসা, দুটি কুঠাঁর, ১০ টি লম্বা পেরেক সরবরাহের নির্দেশ জারী করেন। এভাবে এক সর্বাত্নক যুদ্ধের মাধ্যমে তৎকালীন বর্মী রাজা সিনপিয়ার বাহিনী কে পরাজিত করেন এবং ১৮১৫ সালে সিনপিয়ারের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে শেষ হয় আরাকানের স্বাধীনতা উদ্ধারের আন্দোলন ।

 

১৮২৪ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বার্মা দখল করেন, এরপরে দীর্ঘ ১০০ বছর পর্যন্ত আরাকানীরা স্বস্তিতে ছিল কিন্তুু ১৯৪২ সালে আরাকান জাপানীজদের অধীনে চলে যায় আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মায় জাপানী সেনাদের দ্বারা ১ লাখ ৭০ থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার মানুষ প্রান হারায় তাদের সিংহ ভাগেই ছিলো মুসলমান। অবশেষে ১৯৪৫ সালে আবার ব্রিটিশরা আরাকান দখলে নেয়, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে বার্মা কিন্তুু স্বাধীনতার মাধ্যমে বার্মা ব্রিটিশ মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ভাবে আরাকানের উপর হত্যা নির্যাতন আর উচ্ছেদে মেতে উঠেন বর্মীরা । আরাকানদের বহিরাগত আখ্যা দিয়ে শুরু হয় চরম হত্যাযঙ্গ বলা যায় বার্মায় স্বাধীনতা আরাকানে রোহিঙ্গাদের উৎস ও বিকাশ শীর্ষক এক গবেষণায় অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, রাজা ভোধাঁ পোয়া আরাকান দখল করে বার্মার সাথে যুক্ত করার আগে ১৪০৪ সাল থেকে ১৬২২ সাল পর্যন্ত ১৬ জন মুসলমান রাজা আরাকান রাজ্য শাসন করেছিলেন ।

 

১৭৮২ সালে “থামাদা ” আরাকানের রাজধানী ছিল, স্নোহং দখল করে নিজেকে রাজা ঘোষনা করে গৃহ যুদ্ধে বিপর্যস্ত স্বাধীন আরাকান রাজ্য এর পরে একেবারে ভেঙ্গে যায়,১৭৮৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বার্মার রাজা ভোধাঁ পোয়া আরাকান আক্রমন করে আরাকান কে বার্মার একটি প্রদেশে পরিনত করেন। সে সময় দুই লক্ষাধিক রাখাইন কে হত্যা করা হয়, পরিকল্পিত ভাবে বুদ্ধিজীবি হত্যা করা হয় যাতে এই জাতির পূনরুত্থানের পথ একে বারেই রুদ্ধ হয়ে যায়। ভোধাঁ পোয়ার উচ্চ কর আরোপ আর বর্মী বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয় মগ-মুসলিম-নির্বিশেষ আরাকানের জঙ্গল পালিয়ে চট্রগ্রামের বিভিন্ন স্হানে বসবাস শুরু করেন, মগরা একজোট হয়ে কক্সবাজার উওর দঃ চট্রগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল থেকে বর্মীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন।

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহের ঐতিহাসিক ভূল সিদ্ধান্ত ” বিশ্লেষকরা মনে করেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ আরাকানের ব্যাপারে সঠিক ভূমিকা গ্রহন করতে পারলে আজ রোহিঙ্গাদের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারতো । সুএে প্রকাশ যে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে আরাকান মিয়ামার থেকে আলাদা হতে চেয়েছিল কেননা ঐতিহাসিক ভাবে আরাকান মিয়ানমারের ভূ- খন্ডের অংশ ছিল না, বর্মীজরা এক সময়ের স্বাধীন আরাকান দঝলে নেয় । ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারত -পাকিস্হান স্বাধীনতার আন্দোলনের সময় পূর্ব পাকিস্হান (বর্তমান বাংলাদেশ) এর সঙ্গে একীভূত হতে মতামত দিয়েছিল আরাকানের নেতৃত্বে আর তাই নিজেদের অবস্হান স্পর্ট করতে আরাকান মুসলিম লীগ গঠন করা হয় ১৯৪৬ সালে কিন্তুু মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঐতিহাসিক ভূল সিদ্ধান্তের কারনে আরাকান বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হতে পারেনি। তারা তাদের হারানো স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে না পারলেও তারা চেয়েছিল পূর্ব পাকিস্হানের সাথে যুক্ত হলে স্বাধীন ভাবে বসবাস করতে পারবে আর তাই সে সময়ের আরাকানের নেতৃত্ব চেয়েছিল। কিন্তুু মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর উদাসীনতার কারনে, হোক ভূলের কারনে হোক সেই সময়ের আরাকান নেতৃত্বের মতামত কে মেনে নেওয়া উচিত ছিলো বলে অভিমত বিশ্লেষকদের । কারো কারো অভিমত এর দায় জিন্নাহর, তিনি আদৌ মুসলিম ছিলেন কী না, সে ব্যাপারেই অনেক টা ই সন্দেহ ! জিন্নাহ ছিলেন খোজা মুসলিম আর খোজা মুসলিম হলো হিন্দু লোহানা জাতি থেৃকে ধর্মান্তর হয়েছেন তারা এরা শিয়া সম্প্রদায় ভুক্ত। বার্ণাড লিউইস খোজাদের বিবরন দিতে গিয়ে বলেছেন এরা মুসলিম আচ্ছাদনের তলায় হিন্দু মনো-ভাবাপনু সুএে.. যেশোবস্ত সিংহ, জিন্নাহ্ আর ভারত দেশ ভাগ, আনন্দ পাবলিশার্স, পৃষ্ঠা ৬২।