বাবুগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূর ওপর নির্মম নির্যাতন

জুন ২৯, ২০১৬ ১:৩৯ দুপুর

বরিশাল প্রতিনিধিঃ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবীতে নাজমুন্নাহার সাথি (২৪)নামে এক গৃহবধূর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে শশুর বাড়ির পরিবারের বিরুদ্ধে।

একটি কক্ষে তিনদিন আটকে অভুক্ত রেখে এ নির্যাতন চালানো হয়। এই নির্যাতনের ঘটনায় স্বামী জাকারিয়া মোহরীও জড়িত রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই গৃহবধু কৌশলে পালিয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের দারস্থ হয়। পুলিশ তাকে নিয়ে উপজেলার রহমতপুর এলাকার বড় মিয়ার বাড়ীতে ওই বাসায় হানা দিয়ে নির্যাতনকারী স্বামীসহ সকলকে সতর্ক করে আসে। কিন্তু এতে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওই গৃহবধুকে ফের আটকে হত্যার পরিকল্পনা করে শশুড় বাড়ির পরিবার। এক পর্যায়ে দুপুরের পরে ওই গৃহবধুকে মারধর করে তার চক্ষু উৎপাটনের চেষ্টা চালায়।

এরপর খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এনামুল হকের নেতৃত্বে একটি টিম গিয়ে এক সন্তানের জননী সাথিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে। কিন্তু ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

নির্যাতিতা গৃহবধূ নাজমুন্নাহার সাথি বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের শরীফ বাড়ির মোস্তফা মিয়ার মেয়ে। গৃহবধুর পরিবার ও একাধিক সূত্র জানায়, বছর চারেক আগে রহমতপুর বড় মিয়ার বাড়ির মোক্তার মোহরীর ছেলে জাকারিয়া মোহরীর সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয় নাজমুন্নাহার সাথির। ওই সময় উপঢৌকন হিসেবে আসবাবপত্রসহ নগদ দেড় লাখ টাকাও দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও ব্যবসা করার তাগিদ দিয়ে গত কয়েক বছরে আরও দুই লাখ টাকা নেয় স্বামী জাকারিয়া। এমনকি এক বছর আগে একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়ার আগেও ৫০ হাজার টাকা চেয়ে নেয়।

জাকারিয়া মোহরীর রহমতপুর ব্রীজের ঢালে একটি সেনেটারি দোকান রয়েছে। মূলত ওই দোকান দেখিয়ে সম্প্রতি সে সাথিকে তার পরিবারের কাছ থেকে আরো দুই লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে এনে দিতে চাপ দেয়। কিন্তু সাথি এতে অপরগতা প্রকাশ করলে তাকে শশুর-শাশুড়ী এবং স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন করে আসছিল। যার ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিন যাবৎ সাথিকে বাসার একটি কক্ষে আটকে ফের নির্যাতন করা হয়।

পুলিশ জানায়, সাথিকে নিয়ে বাসায় গিয়ে শশুরবাড়ির পরিবারকে সতর্ক করে আসা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও নির্যাতন চালানো হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধার করে শেবাচিমে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাকারিয়া মোহরী বলছেন, সাথিকে কোন নির্যাতন করা হয়নি। তবে তার মাকে কামড়ে দেয়া থেকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে চোখের কোণে সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*