অবশেষে সানু ফিরলো তাঁর আপন ঘরে

জুন ৩০, ২০১৬ ২:৪২ দুপুর

নিউজ ডেক্সঃ

ভারতের দিল্লী থেকে হারিয়ে যাওয়া শিশু সনু দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মায়ের কোলে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে সনুর সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মিলিত হন তার মা-বাবা।

সকালে ভারতের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে বিকেলে পৌঁছায় সনু। শিশুটি ভারতে ফিরে যাওয়ার খবর সনুর মা মুমতাজকে দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ‍যিনি শিশুটিকে ফিরিয়ে নেওয়ার পেছনের কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এক টুইট বার্তায় বলেন, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন সনুকে নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে। সনুকে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান সুষমা।

এর আগে, সোমবার বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বরগুনার এক আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শিশু সনুকে ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বরগুনার আদালতে ভারতীয় হাইকমিশনের আইনজীবী সঞ্জীব দাস কাছে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে শিশু সনু হারিয়ে যায়। এরপর বাংলাদেশে তার খোঁজ পাওয়া যায়।

এরপর আদালতের নির্দেশে দিল্লীতে সনুর বাবা-মায়ের সাথে তার ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। সে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল মিলে যাবার পর এখন শিশু সনুকে ভারতীয় হাইকমিশনের জিম্মায় দেওয়া হলো।

সনুকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার ঘটনায় বরগুনার আদালতে এখন মানবপাচারের একটি মামলা বিচারাধীন আছে।

আদালত শর্ত দিয়েছে যে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য শিশু সনুকে যখন প্রয়োজন হবে তখন যেন তাকে হাজির করানো হয়।

বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারী কৌসুলি আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, আদালত প্রথমে শর্ত দিয়েছিল যাতে মামলার সাক্ষির প্রয়োজনে শিশু সনুকে আদালতে হাজির করাতে ভারতীয় হাই কমিশন ‘বাধ্য’ থাকে। কিন্তু এ বিষয়টি পুন:বিবেচনার আবেদন জানানো হয়।

এরপর আদালত সংশোধিত আদেশে বলে প্রয়োজনে ভারতীয় হাইকমিশন শিশু সনুকে আদালতে হাজির ‘নিশ্চিত’ করতে পদক্ষেপ নেবে। শিশু সনু দিল্লী থেকে নিখোঁজ হয়েছিল নাকি তাকে পাচার করে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল, সে বিষয়টি এ মামলার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

গত মে মাসে সনু জানায়, পাঁচ বছর আগে এক মহিলা তাকে নিয়ে আসে বাংলাদেশে।

দিল্লীতে সনুর মা তার সন্তান ‘হারানোর’ ঘটনায় বাংলাদেশি নারীকেই অভিযুক্ত করেছে। সনুর এ ঘটনার সাথে হিন্দি সিনেমা ‘বজরঙ্গী ভাইজানের’ ঘটনার সাথে অনেকে মিল পাচ্ছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*