মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার ৪ লাখ বাঙালী নারী

ডিসেম্বর ২০, ২০১৭ ৬:৪০ দুপুর

অনলাইন ডেক্সঃ

১৯৭২-এ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অনুরোধে অস্ট্রেলিয়া থেকে ডাঃ জিওফ্রে ডেভিসের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল ঢাকায় আসেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ করা হয়েছিল যে, ১৯৭১-এ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশী বাঙালী নারী গর্ভবতী। তাদের জরুরী ভিত্তিতে শারিরীক-মানসিক এবং গর্ভপাতের ব্যবস্থা ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

তখন ডাঃ ডেভিসের নেতৃত্বাধীন চিকিৎসকগণ সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সরকারের ঊর্ধ্বতনদের কাছে এক প্রতিবেদন প্রস্তাবাকারে পেশ করেন। তাতে বলা হয়েছে- “দখলদার আমলে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত বাংলাদেশের নারীদের একটা বিরাট অংশ বন্ধ্যাত্ব ও পৌনপুনিক রোগের সম্মুখীন হয়েছে।”

সিডনীর প্রখ্যাত শল্য চিকিৎসক ডাঃ ডেভিস আরো বলেন যে, “৯ মাসে পাকবাহিনীর দ্বারা ধর্ষিতা ৪ লাখ নারীর বেশীর ভাগই সিফিলিস অথবা গনোরিয়া কিম্বা উভয় ধরনের রোগের শিকার। এদের অধিকাংশই ইতোমধ্যেই ভ্রুণ হত্যাজনিত অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। এবং এঁদের অনেকেই বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারেন অথবা জীবনভর দৈহিক বা মানসিক রোগে ভুগতে পারেন।”

সরকারী হিসেবে ধর্ষিতাদের সংখ্যা ২ লাখ বলা হলেও ডাঃ ডেভিস বলছেন, “এই সংখ্যা ৪ লাখ থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজারের কম নয়।”

পাকবাহিনীর কন্সেনট্রেশন ক্যাম্পে আটকাবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের ধারাবাহিক প্রতিবেদন রয়েছে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো দৈনিকে। সেসব অভিজ্ঞতার মর্মস্পর্শী প্রতিবেদন ভয়াবহ! যতোবার পড়েছি অন্তর পাথর হয়ে কেবলই মনে হয়েছে এসব ঘটনা অবলম্বনে চলচ্চিত্র তৈরী হওয়াটা জরুরী।

১৯৭১-এর ৬ই ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হয়। এসময় যশোর ক্যান্টনমেন্টের একটি গুদাম ঘরে দীর্ঘ ৯ মাস নগ্ন অবস্থায় আটক থাকার পর পাকবাহিনীর বন্দীশালা থেকে মুক্ত বর্বর পাকবাহিনী কর্তৃক পাশবিক নির্যাতনের শিকার বাঙালী মা-বোনদের অমানবিক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ১৯৭২-এর এপ্রিলে, দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত ছবিটিতে!

সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ্বের বই, যুদ্ধ দলিল