তবুও মমিন আশাবাদী, বৃষ্টি থামবে

July 5, 2016 9:04 am

নিউজ ডেক্সঃ

রোজা ৩০টি হওয়ার খবরে (যদিও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল) খুশি হয়েছিলেন ফুটপাতের দোকানি আবদুল মমিন মিয়া। স্বপ্ন দেখেছেন আরো একদিন বেশি দোকান করা যাবে। কারণ ঈদের একদিনে বাকি ১০ দিনের চেয়ে বেশি বেচা-কেনা হয়। তবে বৃষ্টিতে ভেসে যায় মমিন মিয়ার সে স্বপ্ন। তবুও মমিন আশাবাদী, বৃষ্টি থামবে। বেচা বিক্রি হবে।

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের পাশে দোকান করেন মমিন। প্রায় সারা বছরই খোলা থাকে তার প্যান্ট শার্টের দোকান। মমিনের দোকানের ক্রেতা বলতে স্কুল কলেজ পড়ুয়া নিম্নমধ্য বিত্ত পরিবারের ছেলেরা আর নিম্ন আয়ের মানুষজন।

মঙ্গলবার সাড়ে ১১টায় মিরপুর গোলচত্বরে দেখা যায় উপর্যুপুরি বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে মমিনের দোকানের মালামাল। কোনোরকম মোটা পলিথিন দিয়ে মালামাল ঢেকে, দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

dha66

বেচা-বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে একরাশ হতাশা ছেড়ে বলেন, ‘ঈদ একদিন পরে হবে (৩০টি পূর্ণ) জেনে খুব খুশি হইছিলাম। ভাবছিলাম আরেকদিন ব্যবসা করা যাবে। সকাল থেকেই মেঘ বৃষ্টি, থামছে পড়ছে। এখনতো বৃষ্টি আর বৃষ্টি। এ সময়টাতেই (আনুমানিক ১১টা) খরিদদার আসে।’

সকাল থেকে কয়েকজন ক্রেতা এসেছিলো তার দোকানে কিন্তু বিক্রি হয়নি। কেউ এসে দেখে চলে গেছেন। কারো সঙ্গে দামে মেলেনি। মমিন মিয়া বললেন, ‘এখন সবাই বাড়ি যাচ্ছে। যাওয়ার সময় চোখে পড়ছে, দেখে যাচ্ছেন।’ তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা বাড়বে বলেই বিশ্বাস মমিন মিয়ার। নিজের হাতে আর কিছু নাই তার। আক্ষেপ করে বললেন, ‘বৃষ্টি থাকলে তো আর হবে না। তবে এও আল্লাহর ইচ্ছা।’

ঈদের বাজারে ভালোই বেচা-কেনা হয়েছে। তবে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প পুজির কারণে বেশি পণ্য দোকানে তুলতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘কম দাম হলে বেশি মাল কিনতে পারতাম। এখন দাম হইছে বেশি। পুঁজি কম। তাই কম মাল তুলতে পারছি। কম দামে কিনতে পারলে কম দামে বিক্রি করতে পারতাম। মানুষে কিনতে পারতো বেশি। বিক্রিও হইতো বেশি। লাভও হইতো বেশি।’

মমিন মিয়া জানালেন, কম পুঁজিতে এখন ব্যবসা নাই। কোনোরকম পেটে ভাতে চলে। কারো যদি লোন থাকে তাহলে ব্যবসা লাভ সব লোন (ঋণ) শোধেই শেষ হয়ে যায়।

এবারে ঈদে বাজারের বেচা-বিক্রিতে খুশি তিনি। মমিন মিয়া বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে ভালোই বেইচ্চি।’ কী পরিমাণ বা কতো টাকার বিক্রি হলো? প্রশ্নে তড়িৎ জবাব, ‘সে বলা যাবে না। যা বিক্রি হইছে, হইছে। এটা ব্যবসার গোমড়। ফাঁস করা যাবে না।’

একই সঙ্গে পাশাপাশি ব্যবসা করেন জামাল হোসেন, রফিক মিয়া, জব্বার আলী, হাসান মিয়া। তারাও স্বপ্ল পুঁজির ব্যবসায়ী। এ ব্যবসা করেই পরিবারে ভরণ-পোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা করান। সবার পরিবার গ্রামে থাকে। সপ্তাহে টাকা পাঠিয়ে দেন। মাসে মাসে গিয়ে বাড়ি থেকে ঘুরে আছেন।

ঈদে বাড়ি যাওয়ার বিষয়ে জব্বার আলী বলেন, ‘চান রাইতে (ঈদের আগের রাতে) রওনা দিমু।’ জব্বার আলীর বাড়ি নোয়াখালী। প্রায় ২০ বছর ধরে ঢাকা শহরে ব্যবসা করেন। বহু ধরনের ব্যবসা করে বিগত ৪ বছর এ শার্ট প্যান্টের ব্যবসা করেন।

ঈদের কেনাকাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে জব্বার আলী বলেন, ‘কিছু কিনছি। বাড়িতে টাকা পাঠাইয়া দিছি। পোলা মাইয়া যাদ্দেরটা তেত্তে ফছন্দ কইরা কিনবো। অ্যাই যাওনের হোলার মায়ের লাইগ্যা একটা শাড়ি লইয়া যাইমু।’ জব্বারের প্রেম ভালোবাসায় পাশের হাসান মিয়ার মিটমিটানি হাসি। এবার বলেই দিলেন, ‘বয়সতো অনেক হইছে, আর কতো পিরিত করবেন জব্বার আলী ভাই।’

তবে বৃষ্টির কারণে হতাশ সবাই। আজ বৃষ্টি থামবে কি না? বেচা-বিক্রি হবে কি না এ নিয়ে আছে তাদের চরম অনিশ্চয়তা।

প্রায় দেড় ঘণ্টার আলাপচারিতায় দেখা যায় বিক্রি শূন্য প্রতিটি দোকান। ঝুম বৃষ্টি ঝড়ছে। দোকানিরা পলিথিন দিয়ে দোকান ঢেকে বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ চলে গেছেন। অতিবর্ষণের কারণে কোনো কোনো দোকানির ওপর ‘খাড়ার ওপর মরার ঘাঁ’ নেমেছে।

ওপরে দেয়া পলিথিনে বৃষ্টির পানি জমতে জমতে পলিথিন ছিড়ে পানি পড়তে থাকে দোকানের ওপর।

Please follow and like us:

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*