বন্দরে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করলো পরকীয়া প্রেমিক

জানুয়ারি ৫, ২০১৮ ৭:৩১ সকাল

মোঃ খোকন প্রধান, চীফ রিপোর্টার

বন্দরে পরকীয়া প্রেমের বলি প্রবাসীর স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩০) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্দী দিয়েছে নিহতের পরকীয়া প্রেমিক ইকবাল হোসেন (৩৫)।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারী) ৩ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে প্রেরন করার পর মামলার প্রধান আসামী ইকবাল হোসেন নারায়নগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট এর নিকট পরকীয়া প্রেমিকা তানিয়া আক্তার কে হত্যার দায় স্বীকার করেন। এহত্যা মামলায় আসামী ইকবাল হোসেনের সহযোগী ধৃত আবুল কাশেম কে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করে আদালতে প্রেরন করে আদালত তার রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা বন্দর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) অজয় কুমার পাল।

তিনি আরো বলেন, প্রধান আসামী ইকবাল হোসেন রিমান্ডে হত্যার কারন, বিবরন ও হত্যা কান্ডে সহযোগীতা কারী এসব কিছু তথ্য রিমান্ডে পুলিশের কাছে জানানোর পর বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে উপস্হাপন করা হলে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় পরকীয়া প্রেমিকা তানিয়া আক্তার কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দী প্রদান করেন। পুলিশ এ হত্যা মামলায় ইকবাল হোসেনের সহযোগী আবুল কাশেম কে গ্রেপ্তার করেছেন তবে তাকে জিঙ্গাসাবাদ করার জন্য রিমান্ড প্রার্থনা করা হলেও আদালত আবুল কাশেমের রিমান্ড এখনো মঞ্জুর করেনি।

উল্লেখ্য যে, গত শনিবার ভোর রাতে নাঃগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার চৌধুরী বাড়ী এলাকায় সৌদি আরব প্রবাসী নূর হোসেনের স্ত্রী এবং দুই কন্যা সন্তানের জননী তানিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। এসময় পুলিশ হত্যার ঘটনায় বন্দরের সালেহনগর এলাকার মৃত ইকহাক খানের ছেলে মোঃ ইকবাল হোসেন খানঁ কে আটক করেন । এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সুএে পুলিশ জানতে পেরেছিল ইকবাল হোসেনের সাথে নিহত তানিয়া আক্তারের পরকীয়া প্রেম ছিলো শুক্রবার দিন তানিয়ার সাথে তার পরকীয়া প্রেমিক ইকবাল হোসেনের ঝগড়া হয় টাকা -পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে এর পরে ইকবাল শনিবার ভোর রাতে শ্বাসরোধ করে তানিয়া আক্তার কে হত্যা করেছিল। এঘটনায় নিহত তানিয়া আক্তারের পিতা তাইজুল ইসলাম বাদী হয়ে ইকবাল হোসেন কে সহ তার সহযোগী আবুল কাশেম কে আসামী করে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল যার নং ৬২(১২)১৭ ।

জানা গেছে বন্দরের চৌধুরী বাড়ী এলাকার নিবাসী নূর হোসেনের সাথে একই এলাকার তাইজুল ইসলামের মেয়ে তানিয়া আক্তারের বিয়ে হয় ১৪ বছর আগে পারিবারিক সম্মতিক্রমে। তাদের সংসারে নূসরাত (১০) ও নিশাদ (৫) নামে দুটি কন্যা সন্তানও রয়েছে, নূসরাত স্হানীয় একটি বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী। তাদের পিতা নূর হোসেন জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরব প্রবাসী, তাদের বাড়ীতে টাইলস এর কাজ করতে এসে ইকবাল হোসেনের সাথে পরিচয় হয়েছিল প্রবাসীর স্ত্রী তানিয়া আক্তারের সাথে। এর পরে একে অপরের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন, একাধিক বার তানিয়া ও ইকবাল কে আপওিকর অবস্হায় এলাকাবাসী আটক করেছিল। পরে এলাকাবাসীর হাতে একাধিক বার ইকবাল মারধর খেয়েছিল তবুও তাদের পরকীয়া প্রেমের বিচ্ছেদ হয়নি কিন্তুু তানিয়ার কাছ থেকে ধার হিসাবে নেওয়া টাকার কারনে তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে পরকীয়া প্রেমিক ইকবাল হোসেন তানিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করল।