১টি মাত্র কিডনি সেটিও নষ্ট, হৃদয়বানদের কাছে বাঁচার আকুতি ছাগলনাইয়ার আনিকার

March 20, 2018 9:43 am

ওয়াসীম আকরাম:

বাবা আমি কখন হাঁটতে পারব? বাবা আমি স্কুলে কবে যাব? বাবা আমরা বাড়ি কবে যাব? স্বভাব সুলভ আচরনে আনিকা এভাবে নানা প্রশ্ন করতে থাকে বাবাকে। বাবা লুকিয়ে চোখ মুছে। মেয়ের সাথে যে বাবা প্রভাষক আবুল খায়ের কখনো মিথ্যা বলেননি । ১০বছর বয়সের মেয়েকে জীবনে একবার একটি থাপ্পর দিয়ে ২দিন খাবার খেতে পারেনি যে বাবা, চোখের সামনে অগনিত সূচের পোঁড়া বাবা কিভাবে সহ্য করবে? মেয়ের অগনিত প্রশ্ন ও অসহ্য সূচেঁর পোড়ের মোকাবেলা করার ভয়ে কাছে থেকেও দূরে থাকেন বাবা। ছাগলনাইয়া পৌর শহরের আল-ফালাহ কিন্ডার গার্টেনের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী আনিকা তাহসিন পরিক্ষায় কখনো ২য় হয়নি। বেসরকারি বৃত্তিও পেয়েছে। গত ক’দিন আগে ঢাকা শিশু হাসপাতালের ১২নম্বর ওয়ার্ডের ০৮নং বেডে কাতরাতে কাতরাতে বাবার কাছে বায়না ধরেছিল তার সর্বশেষ বৃত্তির পুরস্কারটি দেখতে। লোক মারফতে বাবা তার বায়না পূরন করেছিলেন।

জন্মগতভাবে একটিমাত্র কিডনি নিয়ে পৃথিবীর আলো দেখেছিল আনিকা। বাকী আরেকটি কিডনিও বিকল। তেমন কোন দৃশ্যমান অসুস্থতা ছিলনা বলে বাবা-মা বিষয়টি জানতো না। মাত্র দু’মাস আগে মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর জানতে পারেন বিষয়টি। সে থেকে অদ্যবধি হাসপাতালে ভর্তি আছে আনিকা। বাবা আবুল খায়ের ভূঞা ছাগলনাইয়া পৌর শহরের মৌলভী সামছুল করিম কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের প্রভাষক। মা তাসলিমা আক্তার একজন গৃহিনী । শহরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পাশে ভাড়া বাসায় থেকে বড় মেয়ে আনিকা ও অপর দু’মেয়েকে নিয়ে তাদের সংসার। বাবা আবুল খায়ের ভূঞা আবেগ তাড়িত কন্ঠে বলেন, বড় মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। ভেবে ছিলাম আগামী বছর জেলা শহরের কোন ভাল স্কুলে মেয়েকে ভর্তি করাব। আজ সে স্বপ্ন কান্নার জলে ভেসে চলেছে। এখন মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কা । দু’মাসে ৪লক্ষ টাকার অধিক চিকিৎসা খরচ হয়েছে। এখন প্রায় প্রতিদিনই মেয়ের কিডনি ডায়ালসিস করাচ্ছেন। জানিনা এভাবে আর কতদিন অর্থের যোগান দিতে পারব। এদিকে প্রতিবার কিডনি ডায়ালসিসে আনিকার এ পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন। এপর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সংগঠন ৮ব্যাগ রক্ত যোগান দিয়েছে। এনিয়ে চরম উদ্বিগ্নতায় আছি।
বর্তমানে আনিকার চিকিৎসার্থে অর্থ ও রক্ত খুবই প্রয়োজন। এজন্য সমাজের বিবেকবান ও বিত্তবানদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান শিক্ষক আবুল খায়ের এবং সমাজের সকল শ্রেনীর লোকের কাছে মেয়ের জন্য দোয়া কামনা করেন।

সাহায্য পাঠানোর জন্য তার বিকাশ নম্বর ০১৯১৫-২১৮৭৮৮ এবং ব্যাংক হিসাব মোহাম্মদ আবুল খায়ের ভূঞা, নম্বর ৪১১২১০০০৪০০৩৮, এক্সিম ব্যাংক, ছাগলনাইয়া শাখা, ফেনী।

Please follow and like us: